প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
চট্টগ্রাম নগরীর পাহাড়তলী থানার টোল রোড এলাকায় গাড়িচালক মো. সজীব হত্যা মামলায় তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) চট্টগ্রামের পঞ্চম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. তাজউল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেছেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন হবিগঞ্জের বানিয়াচং থানার নুরুল আমিন, কুমিল্লার দেবীদ্বারের শাহজাহান এবং ফেনী সদর উপজেলার নুরুল আলম টুটুল। রায় ঘোষণার সময় টুটুল আদালতে উপস্থিত ছিলেন কিন্তু অপর দুই আসামি পলাতক ছিলেন।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী এস এম কাওসার সাগর জানান, মামলায় ২১ জনের সাক্ষ্য এবং উপস্থাপিত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এই কারণে আদালত তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দিয়েছেন।
রায় ঘোষণার পর নুরুল আলম টুটুলকে সাজা পরোয়ানামূলে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। পলাতক নুরুল আমিন ও শাহজাহানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করেছে আদালত।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০২১ সালের ১৭ অক্টোবর, বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর সজীব নিখোঁজ হন। তখন তার বয়স ছিল ২৭ বছর। সজীব নোয়াখালীর চাটখিল থানার আব্দুল হক স্বপনের ছেলে এবং পণ্যবাহী গাড়ি চালিয়ে বিভিন্ন জেলায় মালামাল পরিবহন করতেন।
নিখোঁজের ১০ দিন পর, ২০২১ সালের ২৭ অক্টোবর পাহাড়তলী থানার টোল রোডের পূর্ব পাশে একটি কৃষিজমি থেকে অজ্ঞাতপরিচয় একটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যের মাধ্যমে মরদেহটি সজীবের বলে শনাক্ত করা হয়।
পুলিশের নথিতে উল্লেখ রয়েছে, সজীবের মাথার পেছনে থেতলানো আঘাত, বুকে ধারালো অস্ত্রের আঘাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখমের চিহ্ন ছিল।
এ ঘটনায় সজীবের ছোট ভাই ইকবাল হোসেন রবিউল বাদী হয়ে মামলা করেছেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, নুরুল আমিনের সঙ্গে ২০১৪ সালে এক পোশাক শ্রমিক নারীর বিবাহ হয়। পরে ২০২১ সালে ওই নারীর সঙ্গে সজীবের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি জানতে পেরে নুরুল আমিন একাধিকবার সজীবকে আটকে মারধর করেন। একপর্যায়ে ওই নারীর সঙ্গে নুরুল আমিনের বিচ্ছেদ ঘটে, এতে সজীবের ওপর নুরুল আমিন আরও ক্ষুব্ধ হন।
২০২১ সালের অক্টোবরে ওই নারীকে আবার বিয়ে করার উদ্দেশ্যে হবিগঞ্জ থেকে চট্টগ্রামে আসেন নুরুল আমিন। বিয়ের আগে সজীবকে হত্যার পরিকল্পনা করেন তিনি এবং এ ব্যাপারে শাহজাহানের সঙ্গে আলোচনা করেন। পরে ওই নারীর সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার কথা বলে ২০২১ সালের ২৫ অক্টোবর রাতে সজীবকে ডেকে আনেন নুরুল আমিন, শাহজাহান ও নুরুল আলম টুটুল। পরে তাঁকে ঘটনাস্থলের পাশের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে মাথা ও পেটে আঘাত করা হয়। এরপর অণ্ডকোষ চেপে এবং গলায় গেঞ্জি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে সজীবকে হত্যা করা হয় বলে পুলিশের তদন্তে উঠে আসে।
তদন্তে বলা হয়েছে, পরে তিন আসামি সেখানেই মরদেহটি ফেলে পালিয়ে যান। তদন্ত শেষে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের পরিদর্শক মাসুদ পারভেজ ২০২২ সালের ২৭ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র দেন। ২০২৩ সালের ১১ অক্টোবর তিন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। তারপর ২১ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে সোমবার রায় ঘোষণা করা হলো।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন