প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
২০১৮ সালে অস্ট্রেলিয়া দলের দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে ঘটে যাওয়া ‘স্যান্ডপেপার কেলেঙ্কারি’ নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন উসমান খাজা। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটে এ নিয়ে তীব্র বিতর্ক চলছে। খাজার নতুন দাবি অনুযায়ী, বল টেম্পারিং কেলেঙ্কারি সম্পর্কে তিনি যে তথ্য প্রকাশ করেছেন, তার পেছনে বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে তার শৈশবের বন্ধু ও দীর্ঘদিনের ওপেনিং পার্টনার ডেভিড ওয়ার্নারকে দেওয়া একটি প্রতিশ্রুতি। তিনি জানান, এর আগে দুবার তিনি প্রকাশ্যে মুখ খুলতে চেয়েছিলেন। তবে প্রথমবার স্টিভ স্মিথ তাকে নিরস্ত করেছিলেন। পরে ২০২১ সালে বোলারদের দেওয়া যৌথ বিবৃতির পর তিনি আর কিছু বলার সুযোগ পাননি বলে মনে করেন।
মঙ্গলবার (১০ নভেম্বর) প্রকাশিত হতে যাওয়া নিজের আত্মজীবনী ‘সবর’ নিয়ে প্রকাশনার আগে নাইন নিউজপেপার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারের পর এবং নিউজ কর্পের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে বইটির আরও কিছু অংশ প্রকাশিত হওয়ার পর রোববার (৮ নভেম্বর) ইনস্টাগ্রামে দুটি ভিডিও পোস্ট করেন খাজা। সেখানে তিনি নিজের লেখার পক্ষে অবস্থান নেন এবং আবারও বলেন, ২০১৮ সালের ঘটনার দায় শুধু ওয়ার্নার, স্মিথ ও ক্যামেরন ব্যানক্রফটের ওপর চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়। বরং এই দায় সবার মধ্যে ভাগ করে নেওয়া উচিত।
খাজা বলেন, ‘আমি কাউকে বিপদে ফেলিনি। বর্তমানে যারা দলে আছেন এবং দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যারা ছিলেন, আমিসহ তাদের অন্য কেউই ভুক্তভোগী নই। এই তিনজন আমাদের সবার দোষ নিজেদের কাঁধে নিয়েছিল। প্রকৃতপক্ষে তারাই ভুক্তভোগী। মানুষ তাদের প্রতারক বলেছে, দর্শকদের কাছ থেকে তীব্র সমালোচনা সহ্য করতে হয়েছে, প্রকাশ্যে অপমানিত হতে হয়েছে।’
খাজা আরও বলেন, ‘আমি আমার শৈশবের বন্ধু ডেভিড ওয়ার্নারকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম যে আমি সত্যটা বলব, যাতে সে নিজের গল্পটা বলতে পারে। এ ব্যাপারে আমি শতভাগ অনড়, কোনো অনুশোচনা নেই। অতীতেও ক্রিকেটারদের অধিকার আদায়ে আমি এসিএর (অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশন) মাধ্যমে লড়াই করেছি এবং যেটাকে সঠিক মনে করেছি, তার পক্ষে দাঁড়িয়েছি। এবারও বিষয়টি তার ব্যতিক্রম নয়।’
‘এই তিনজন ন্যায়বিচার পাওয়ার যোগ্য। আমি কারও দিকে আঙুল তুলিনি। এত বছর ধরে আমি যে বিষয়টির সন্ধান করে আসছি, এখনো সেটিই খুঁজছি। আমরা যেন সবাই, আমিসহ, একটি দল হিসেবে সম্মিলিতভাবে দায় স্বীকার করতে পারি এবং শেষ পর্যন্ত বিষয়টি পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যেতে পারি। জানেন কী? আবারও এমন পরিস্থিতি হলে আমি এক মুহূর্তও দ্বিধা করব না,’–খাজা যোগ করেন।
রোববার প্রকাশিত প্রথম ভিডিওর শুরুতে খাজা ব্যাখ্যা করেন, তার ‘এটা আমাদের সবার কাজ ছিল’ মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি পুরো দলের দায়িত্বের কথা বুঝিয়েছেন। তবে তিনি এ কথাও যোগ করেন যে, সবাই বিষয়টি জানত, এ কথা তিনি অস্বীকার করবেন না।
তিনি বলেন, ‘আমি আমার বইয়ে কখনো অন্য কারও হয়ে কথা বলি না।’
খাজা জানান, ২০১৮ সালে কেপটাউন টেস্টের পর স্মিথ, ওয়ার্নার ও ব্যানক্রফটের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলে তিনি সংবাদমাধ্যমে এসে পুরো ঘটনা স্বীকার করতে চেয়েছিলেন।
খাজা বলেন, ‘স্মাজ (স্টিভ স্মিথ) তখন একজন প্রকৃত নেতা ও দায়িত্বশীল অধিনায়কের মতো আমাকে এ কাজ থেকে বিরত করেছিল। সে পুরো দায় নিজের কাঁধে নিতে চেয়েছিল। আমি তার সঙ্গে তর্কও করেছিলাম, কিন্তু সে কোনোভাবেই রাজি হয়নি। এটাই ছিল প্রথমবার, যখন আমি প্রকাশ্যে সবকিছু বলতে চেয়েছিলাম।’
খাজা আরও জানান, ২০২১ সালে দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ব্যানক্রফট বলেছিলেন, দক্ষিণ আফ্রিকায় কী ঘটেছিল, তা থেকে বোলাররা বিষয়টি জানতেন, এটা ‘সহজেই অনুমেয়’। ওই সাক্ষাৎকারের পরও তিনি দলের সম্মিলিত দায় স্বীকারের বিষয়টি সামনে আনার আরেকটি চেষ্টা করেছিলেন।
কিন্তু বোলাররা যৌথ বিবৃতি দেওয়ার পর তার মনে হয়েছিল, প্রকাশ্যে কিছু বলা আর সম্ভব নয়।
নিউজ কর্পে প্রকাশিত বইয়ের একটি অংশে খাজা লিখেছেন, ‘সেদিন বিষয়টি আমাকে ভীষণ ক্ষুব্ধ করেছিল। তবে ডেভির (ডেভিড ওয়ার্নার) রাগের তুলনায় আমার রাগ কিছুই ছিল না। সেদিন রাতে আমি বেশ কয়েকটি উত্তপ্ত বার্তা পেয়েছিলাম। স্মাজ (স্মিথ) কী ভাবছিল, তা নিশ্চিত নই, তবে আমার ধারণা, সেও খুব একটা খুশি ছিল না।’
ইনস্টাগ্রামে তিনি আরও বলেন, ‘আমি তখন ওই খেলোয়াড়দের সঙ্গে বিরোধে জড়াতে চাইনি। সত্যি বলতে, আমি এতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছিলাম না। তাহলে প্রশ্ন আসতে পারে, খেলা চালিয়ে যাওয়ার ওই চার বছরে আমি কেন কিছু বলিনি? জানেন কী, আমি কখনোই এ বিষয়ে প্রথম মুখ খুলতে চাইনি। আমাকে ভীরু বলুন, যা খুশি বলুন। কিন্তু কীভাবে বিষয়টি সামনে আনব, তা বুঝতে পারছিলাম না। কারণ তখনো আমি দলের একজন খেলোয়াড় ছিলাম। যখন জানতাম, আমার কয়েকজন সতীর্থ এ বিষয়ে কথা বলতে চান না, তখন কীভাবে আমি বিষয়টি সামনে আনতাম?’
‘আমি সব সময় সচেতন ছিলাম যে, আমার প্রতিটি কাজ বা বক্তব্য দলের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। সব সময় দলের স্বার্থকে সবার আগে রেখেছি। কিন্তু এখন আর আমি সেই দলের অংশ নই। এখন আমার বক্তব্য আর তাদের প্রতিফলিত করে না। আমি এখন শুধু নিজের হয়ে কথা বলছি,’–খাজা যোগ করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন