প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র ফিজিতে এইচআইভি (হিউম্যান ইমিউনোডেফিসিয়েন্সি ভাইরাস) সংক্রমণের পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে, যার ফলে দেশটিতে জাতীয় স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। বর্তমানে, ফিজিতে প্রতি ৬০ জন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে একজন এইচআইভিতে আক্রান্ত হয়ে রয়েছেন। সরকার এই পরিস্থিতিকে ‘মহামারি’ হিসেবে চিহ্নিত করে দ্রুত সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ফিজির স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসেবা মন্ত্রী ড. রাতু আন্তোনিও লালাবালাভু এই জরুরি অবস্থা ঘোষণার কথা জানান। তিনি উল্লেখ করেন, সাধারণ প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধের প্রচেষ্টার মাধ্যমে এই সংকট মোকাবেলা করা সম্ভব নয়। মহামারির প্রকৃতি বিবেচনা করে জরুরি অবস্থা জারির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ফিজিতে প্রতি ৬০ জন প্রাপ্তবয়স্কের একজন এবং প্রতি ৫০ জন গর্ভবতী নারীর একজন এইচআইভিতে আক্রান্ত রয়েছেন। অথচ পাঁচ বছর আগে এই হার ছিল প্রতি ১৬৭ জনে একজন। ২০২৫ সালের মধ্যে ফিজিতে নতুন করে অন্তত ২ হাজার ৬০ জনের শরীরে এইচআইভি শনাক্ত হয়েছে।
জাতিসংঘের এইডসবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইডসের তথ্য অনুযায়ী, ১০ লাখেরও কম জনসংখ্যার দেশ ফিজিতে ২০১০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে নতুন এইচআইভি সংক্রমণের হার প্রায় ১২ গুণ বেড়েছে। সংস্থাটি জানায়, বর্তমানে নতুন সংক্রমণ দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়া দেশগুলোর মধ্যে ফিজি শীর্ষে রয়েছে।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক মাদক পাচারের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হওয়া এবং অনিরাপদ ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদক গ্রহণের প্রবণতা ফিজিতে এইডস ছড়ানোর অন্যতম প্রধান কারণ। স্বাস্থ্য সচেতনতার অভাব, সামাজিক কলঙ্কের ভয় এবং যথাযথ পরীক্ষা ও চিকিৎসার অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
ইউএনএইডসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ফিজিতে আক্রান্তদের ৫০ শতাংশের বেশি যৌন সম্পর্কের মাধ্যমে এবং ৪২ শতাংশের বেশি ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদক গ্রহণের ফলে সংক্রমিত হয়েছেন। ২০২৫ সালের মধ্যে দেশটিতে আনুমানিক ৯ হাজার ১০০ জন এইচআইভি আক্রান্ত রোগী থাকলেও, তাদের মাত্র ৩৯ শতাংশ নিজেদের সংক্রমণের বিষয়ে অবহিত ছিলেন এবং মাত্র ২২ শতাংশ নিয়মিত অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল চিকিৎসা পাচ্ছিলেন।
ফিজির এই পদক্ষেপের বিষয়ে ইউএনএইডসের নির্বাহী পরিচালক উইনি বিয়ানইমা মন্তব্য করেন, ফিজির বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্বের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা যে এইডস মহামারি এখনও শেষ হয়নি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন