প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
রাজধানীর আজিমপুরে সরকারি কোয়ার্টারে এক তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আদালত দুই আসামিকে, এক নারীসহ, কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রৌনক জাহান তাকির আদালত শুনানি শেষে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ প্রদান করেন। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন আদালত মঞ্জুর করেন।
কারাগারে পাঠানো আসামিদের মধ্যে রয়েছেন, নুরুল আমিন (৪৫) এবং লুৎফন নাহার (৪২)। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নুরুল আমিন সুপ্রিম কোর্টে এমএলএসএস (পিয়ন) হিসেবে ১৬তম গ্রেডে কর্মরত।
লালবাগ থানার পরিদর্শক নাজমুল হোসেন দুই আসামিকে আদালতে হাজির করে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। শুনানির সময় আসামিদের পক্ষে কোনো আইনজীবী জামিনের আবেদন করেননি। পরে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক ছিদ্দিকুর ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ভুক্তভোগী তরুণীর বাবা মারা যাওয়ার পর তার মা দ্বিতীয় বিয়ে করেন। লুৎফন নাহার তাদের পূর্বপরিচিত এবং একই এলাকায় বসবাস করেন। আর্থিক সংকটের কারণে প্রায় এক মাস আগে ওই তরুণী লুৎফন নাহারের বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ শুরু করেন।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে লুৎফন নাহার তরুণীকে আজিমপুর চায়না বিল্ডিংয়ের সরকারি কোয়ার্টারের পঞ্চম তলায় নুরুল আমিনের বাসায় নিয়ে যান। ওই সময় বাসায় নুরুল আমিন ছাড়া আর কেউ ছিলেন না। পরে লুৎফন নাহার তরুণীকে সেখানে রেখে বাইরে অপেক্ষা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, একপর্যায়ে একা পেয়ে নুরুল আমিন তরুণীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করেন। এ সময় তরুণীর চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন। পরে লুৎফন নাহারও সেখানে আসেন এবং মামলায় ধর্ষণের ঘটনায় তাকে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে।
পরে স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে লালবাগ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তরুণী ও দুই আসামিকে থানায় নিয়ে যায়। ভুক্তভোগীর কাছে মোবাইল ফোন না থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। পরে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী খিলগাঁও থানা পুলিশের সহায়তায় পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়।
পুলিশের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দুই আসামি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তদন্ত চলমান থাকায় তাদের কারাগারে রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। শুনানি শেষে আদালত আবেদন মঞ্জুর করেন। মামলাটির তদন্ত চলছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন