প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
অপরিকল্পিত নগরায়ন, জলাশয়ের সংকট এবং যানবাহনে অতিরিক্ত জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহারের কারণে রাজধানী ঢাকা দিন দিন ‘হিট আইল্যান্ড’ বা তাপদ্বীপে পরিণত হচ্ছে। কার্বন ডাই অক্সাইড ও সিসার পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার ফলে যেমন মানুষজনের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে, তেমনই বসবাসের উপযোগিতা কমে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য সরকার বহুমাত্রিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে।
সরকার গৃহায়ণ ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের মাধ্যমে সবুজ বনায়ন বাড়াতে আগামী পাঁচ বছরে দেশজুড়ে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব থেকে ঢাকা শহরকে বাঁচাতে গণপূর্তের মেট্রোপলিটন জোন চলতি বছরের আগস্টের মধ্যেই সাড়ে পাঁচ লাখেরও বেশি ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছ লাগানোর কাজ শুরু করছে। ইতোমধ্যে গণপূর্ত ঢাকা জোনে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেক গাছ লাগানোর কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নগরের তাপমাত্রা কমানোর মূল চাবিকাঠি হচ্ছে সবুজায়ন এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার হ্রাস করা। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রকৌশলীদের মতে, ঢাকার কার্বন নিঃসরণের ৫৬ শতাংশই অনিয়ন্ত্রিত যানবাহন থেকে আসে। কাজেই পেট্রল-ডিজেলচালিত গাড়ির বদলে বিদ্যুৎচালিত এবং হাইব্রিড গাড়ির ব্যবহার বৃদ্ধির জন্য বিআরটিএর মাধ্যমে জোর দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
স্থাপত্য কাঠামো পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও নতুন দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। ঢাকা শহরের উঁচুতলার ভবনগুলোতে প্রচলিত ইট ও জানালার কাঁচের তাপ বিকিরণ অনেক বেশি। এজন্য 'ফায়ার ব্রিকসের' ব্যবহার হ্রাস করে পরিবেশবান্ধব সলিড ব্লক, হলো ব্লক এবং আধুনিক ‘ডিজিইউ’ স্যান্ডউইচ বা টেম্পার্ড গ্লাস ব্যবহারে জোর দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে বিদ্যুৎসাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহারে উৎসাহিত করা হচ্ছে।
ঢাকার গণপূর্ত ই/এম বিভাগ ইতোমধ্যে ৪ হাজার ৬২২ কিলোওয়াটের বেশি সোলার প্যানেল স্থাপন করে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন নিশ্চিত করেছে। এছাড়া বর্তমানে ব্যবহৃত ফ্রিজ ও এসি থেকে বায়ুমণ্ডলের ওজন স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া রোধে সম্পূর্ণ সিএফসিমুক্ত প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর নজর রাখা হচ্ছে।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকারি ভবন ও অফিসগুলোতে ছাদবাগান এবং ল্যান্ডস্কেপিং জোরদার করা হলেও বেসরকারি আবাসন ও শপিং মলগুলোতে এখনো কিছুটা উদাসীনতা দেখা যাচ্ছে। এদিকে ঢাকার অতিরিক্ত উষ্ণতা হ্রাস করতে এবং শহরটিতে পুনরায় সজীবতা ফিরিয়ে আনতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণকেও অপরিহার্য বলে মনে করা হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন