প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ফ্রান্সে নতুন করে বিক্ষোভ ও ব্যাপক সহিংসতার আশঙ্কার মধ্যে সরকার দেশজুড়ে প্রায় ৭০ হাজার পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এক সপ্তাহ আগে একটি বিক্ষোভের ফলে দেশটি কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ নগর সহিংসতার সম্মুখীন হয়েছিল।
প্যারিসে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহিংসতা ছড়ানোর এবং লুটপাটের উসকানি দেওয়ার ঘটনা ঘটছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কোনো বিকল্প নেই।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ ও পড়াশোনার পরিস্থিতি নিয়ে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের আন্দোলন থেকেই এই বিক্ষোভের সূচনা। তবে বর্তমানে এটি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় বৃদ্ধির অসন্তোষের সঙ্গে যুক্ত হয়ে একটি বিশাল গণবিক্ষোভে রূপ নিয়েছে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সাধারণ মানুষের রাস্তায় নামার ফলে আন্দোলন আরও শক্তিশালী হয়েছে।
এদিকে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে আসছে। প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর মেয়াদ শেষ হওয়ার ছয় মাস পর এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতি ইতিমধ্যেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
একটি নতুন জনমত জরিপে দেখা গেছে, বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভের সুযোগ নিয়ে কট্টর ডানপন্থি নেত্রী মেরিন লে পেন দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করছেন এবং জরিপে তিনি বেশ এগিয়ে রয়েছেন।
সংকট আরও বাড়িয়ে তুলেছে চলতি সপ্তাহান্তে প্যারিসের দক্ষিণের শহর অর্লেয়ঁ-র একটি ঘটনা। সেখানে লে পেনের দল 'ন্যাশনাল র্যালি' (আরএন) বিশাল সম্মেলনের আয়োজন করতে যাচ্ছে, যেখানে হাজার হাজার সমর্থক অংশগ্রহণ করবেন। অন্যদিকে একই সময়ে বিরোধী বিক্ষোভকারীরা সেখানে পাল্টা জমায়েতের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ফলে দুই পক্ষের মুখোমুখি সংঘর্ষের সম্ভাবনা নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন উদ্বিগ্ন।
সহিংসতা এড়াতে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেছেন। তবে বৈঠক শেষে শিক্ষার্থীরা পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, সরকার থেকে দাবি পূরণের সুনির্দিষ্ট কোনো বার্তা না আসা পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলতে থাকবে।
শিক্ষার্থীদের অনড় অবস্থান এবং বিরোধীদের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির কারণে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে তাই পুরো ফ্রান্সকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেওয়া হচ্ছে।
সূত্র: রয়টার্স
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন