প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে রাজধানীতে দিনভর বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেছেন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। তারা জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে অবরোধ কর্মসূচি পালন শুরু করে। এ সময় পুলিশের সঙ্গে তাদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশের লাঠিচার্জে আহতের অভিযোগও পাওয়া যায়।
অন্যদিকে, শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জাতীয় সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় ব্যক্তিগত মন্তব্য নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করলেও আন্দোলনের গতি থামাতে পারেননি। শিক্ষার্থীরা রাতভর রাজধানীতে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকেলে, রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব মোড়ে সমাবেশ করে শিক্ষার্থীরা তাদের তিন দফা দাবি তুলে ধরেন। সেখান থেকে তারা একটি মিছিল নিয়ে জাতীয় সংসদ ভবনের দিকে রওনা দেন। পরে সংসদ ভবনের সামনের সড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ শুরু করলে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
অবরোধ চলাকালে পুলিশের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের সড়ক ছেড়ে দিতে অনুরোধ করা হয়। কিন্তু শিক্ষার্থীরা অবস্থান চালিয়ে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। এক পর্যায়ে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়। আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, এ সময় পুলিশের লাঠিচার্জে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে।
পুলিশ পরবর্তীতে সংসদ ভবনের সামনে থেকে শিক্ষার্থীদের সরিয়ে দিলে তারা আসাদগেটের আড়ং মোড় এলাকায় অবস্থান নেন। উত্তেজিত অবস্থায় কয়েকজন শিক্ষার্থী পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। পুলিশও তাদের ধাওয়া দেয় এবং মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে সরিয়ে দেয়।
এরপরেও আন্দোলন থেমে থাকেনি। রাতের মধ্যে শিক্ষার্থীরা রাজধানীতে অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত রাখেন এবং বিভিন্ন দাবি নিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন। আন্দোলনকারীরা দাবি জানান দুর্যোগ পরিস্থিতি শেষ না হওয়া পর্যন্ত এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত, ১৩ জুলাই বৈরী আবহাওয়ার কারণে অংশ নিতে না পারা শিক্ষার্থীদের জন্য পুনঃপরীক্ষার ব্যবস্থা এবং শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগ।
এদিকে, মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বিলের ওপর সংশোধনী প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, চলমান বন্যা পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন যেসব পরীক্ষা স্থগিত ছিল, সেগুলো নতুন প্রশ্নপত্রে আবার নেওয়া হবে। তিনি জানান, পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, যুক্তিবিদ্যা ও হিসাববিজ্ঞান বিষয়ের পরীক্ষা চলমান পরীক্ষার সঙ্গে একই সময়ে অনুষ্ঠিত হবে।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে শিক্ষামন্ত্রী সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচিত একটি মন্তব্য নিয়েও কথা বলেন। তিনি জানান, ‘আমার ব্যক্তিগত মন্তব্যের কারণে অনেকেই আপত্তি জানিয়েছেন। আমি কাউকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কিছু বলিনি। যদি কেউ আহত হয়ে থাকেন, তাহলে আমি দুঃখ প্রকাশ করছি।’
প্রসঙ্গত, সোমবার রাত থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ফোনালাপ ছড়িয়ে পরে যেখানে শিক্ষামন্ত্রী বর্তমান শিক্ষার্থীদের ‘ফার্মের মুরগি’ বলে সম্বোধন করেছেন—এমন অভিযোগ ওঠে। এই বক্তব্য নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হলে, শিক্ষার্থীরা পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনে নামেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন