প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিমানবন্দর থেকে গাজীপুর পর্যন্ত বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পটি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে চলমান নির্মাণকাজের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় নির্মিত স্টেশন ও লেন বিভাজক অপসারণ করে সড়কটিকে ৬ লেনের সাধারণ মহাসড়কে রূপান্তরিত করা হবে।
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের বিআরটি শাখা থেকে সোমবার (১৯ অক্টোবর) একটি চিঠির মাধ্যমে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।
চিঠিতে উপসচিব তাসলিমা আহমেদ পলি স্বাক্ষর করেছেন। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, রোববার (১৮ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘গ্রেটার ঢাকা সাসটেইনেবল আরবান ট্রান্সপোর্ট প্রজেক্ট (বিআরটি, গাজীপুর-এয়ারপোর্ট)’ এর ভবিষ্যৎ নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা শেষে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিআরটি করিডোরের স্টেশন ও লেন ডিভাইডার অপসারণ করে এটিকে তিন যোগ তিন লেনবিশিষ্ট সাধারণ হাইওয়ে করিডোরে রূপান্তর করা হবে। পাশাপাশি, দুই লেনবিশিষ্ট দুটো ওভারপাসকে (উড়ালসড়ক) চার লেনে রূপান্তরের কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা করে বিদ্যমান আইনি জটিলতা নিরসন করে প্রকল্পটি আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত (প্রজেক্ট ক্লোজার) করতে বলা হয়েছে।
চিঠিতে আরও জানানো হয়েছে, বিআরটি পরিচালনার জন্য গঠিত ‘ঢাকা বাস র্যাপিড ট্রানজিট পিএলসি’ বন্ধ করে এ-সংক্রান্ত কার্যক্রম সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের (সওজ) আওতায় আনা হবে। মন্ত্রিসভার এই সিদ্ধান্ত জরুরি ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে এবং কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রতি মাসের ৩ তারিখের মধ্যে অগ্রগতি প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ), সওজ ও বিআরটি কোম্পানিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, বিমানবন্দর থেকে গাজীপুরের শিববাড়ী পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ বিআরটি প্রকল্পটি ২০১২ সালে গ্রহণ করা হয়েছিল। সড়কের মাঝখানে দুটো আলাদা লেনে বিশেষ বাস চালানোর লক্ষ্যে ২০১৬ সালে এর নির্মাণকাজ শেষ করার কথা ছিল। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), ফরাসি উন্নয়ন সংস্থা (এএফডি) ও গ্লোবাল এনভায়রনমেন্ট ফ্যাসিলিটির (জিইএফ) অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্বে ছিল সওজ, সেতু বিভাগ ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি)। শুরুতে প্রকল্পের ব্যয় প্রায় ২ হাজার ৪০ কোটি টাকা ধরা হলেও তিন দফা সংশোধনে তা বেড়ে ৪ হাজার ২৬৮ কোটি টাকায় দাঁড়ায়। গেল ১৪ বছরে প্রকল্পটিতে ২ হাজার ৮১১ কোটি টাকা ব্যয় হলেও বিশেষ বাস চালু করা সম্ভব হয়নি।
এর আগে, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক সামছুল হকের নেতৃত্বে একটি বিশেষজ্ঞ দল প্রকল্পটির কারিগরি দিক পর্যালোচনা করে এটি বাতিল এবং বিদ্যমান অবকাঠামো উন্নত মহাসড়ক হিসেবে ব্যবহারের সুপারিশ করেছিল। তাদের প্রতিবেদনে পরিকল্পনা ও নকশায় ত্রুটি এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়হীনতার কথা উল্লেখ করা হয়। তবে প্রকল্পের কাজ ৯৭ শতাংশ সম্পন্ন হওয়ার পর তা বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে প্রতিবাদ জানানোর কথা বলেছে ‘গাজীপুর ঐতিহ্য ও উন্নয়ন’ নামের একটি সংগঠন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন