প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
শিশুদের মধ্যে কৃমির সমস্যা একটি সাধারণ বিষয়। কৃমির ডিম শরীরে প্রবেশ করতে পারে মাটি, খাবার বা পানির মাধ্যমে। অপরিষ্কার হাতে মুখ দেওয়ার অভ্যাসও শিশুর শরীরে কৃমির সংক্রমণের কারণ হতে পারে। এর ফলে শিশুদের মধ্যে পেটব্যথা, খিদে কমে যাওয়া এবং মলদ্বারে চুলকানির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
কৃমির ওষুধ খাওয়ানোর পর কিছুদিনের জন্য আরাম মিললেও, যদি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস না থাকে, তাহলে আবারও এই সমস্যা ফিরে আসতে পারে। দীর্ঘ সময় ধরে কৃমির সমস্যায় ভুগলে শিশুর শরীরে রক্তস্বল্পতা এবং পুষ্টির অভাবও দেখা দিতে পারে। তাই, ওষুধের পাশাপাশি শিশুর খাবার এবং পরিচ্ছন্নতার দিকেও বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন।
কৃমি থেকে বাঁচতে যা করবেন
শিশুকে খাবার খাওয়ার আগে এবং শৌচাগার ব্যবহারের পর সাবান দিয়ে ভালোভাবে হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। নখ ছোট ও পরিষ্কার রাখা অত্যন্ত জরুরি। নোংরা হাতে মুখে দেওয়া থেকে বিরত থাকাসহ পরিষ্কার খাবার এবং নিরাপদ পানি খাওয়ানোর বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে।
কৃমির সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কৃমিনাশক ওষুধ গ্রহণ করা আবশ্যক। পাশাপাশি, খাবারের তালিকায় কিছু পুষ্টিকর খাবার অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে।
উচ্ছে-করলা
কৃমির সমস্যায় শিশুর খাবারের তালিকায় উচ্ছে ও করলা অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। এতে জীবাণুর বিরুদ্ধে কাজ করার উপাদান রয়েছে এবং এটি আঁশসমৃদ্ধ। নিয়মিত খাবারের অংশ হিসেবে উচ্ছে-করলা রাখলে পেট পরিষ্কার রাখতে সহায়তা হতে পারে।
নিমপাতা
কৃমির সমস্যায় তেতো খাবার খাওয়ার প্রচলন রয়েছে। তাই উচ্ছে-করলার পাশাপাশি নিমপাতার রস খাওয়ানোর কথাও বলা হয়। তবে, শিশুকে নিমপাতার রস খাওয়ানোর আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কাঁচা হলুদ
কাঁচা হলুদের রসও কৃমির সমস্যা কমাতে সহায়ক হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। কাঁচা হলুদ বেটে এর সঙ্গে কাঁচা আদা, সামান্য নুন এবং লেবুর রস মিশিয়ে খাওয়ানোর প্রচলন রয়েছে। তবে, শিশুর ক্ষেত্রে এমন ঘরোয়া উপায় ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
বারবার কৃমি হলে কী করবেন
শিশুর বারবার কৃমি হলে শুধুমাত্র ঘরোয়া উপায়ের ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কৃমির ধরন অনুযায়ী চিকিৎসা ভিন্ন হতে পারে। তাই, প্রয়োজন অনুযায়ী কৃমিনাশক ওষুধ ব্যবহার করতে হবে।
কৃমি প্রতিরোধের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস গড়ে তোলা। খাওয়ার আগে ও শৌচাগার ব্যবহারের পর সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, নখ ছোট রাখা, পরিষ্কার খাবার ও নিরাপদ পানি খাওয়ানো এবং নোংরা হাতে মুখে দেওয়া বন্ধ করার অভ্যাস শিশুকে ছোটবেলা থেকেই শেখাতে হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন