প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
রাজধানীতে যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং সড়কে ট্রাফিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) ক্যামেরার পর এবার ড্রোন সার্ভিলেন্স চালু করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।
পরীক্ষামূলকভাবে প্রাথমিক পর্যায়ে একটি ড্রোনের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও যানজটপ্রবণ এলাকায় রিয়েল টাইম তথ্য সংগ্রহ করার কার্যক্রম শুরু করা হবে। পাশাপাশি ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারী যানবাহন শনাক্ত করা, সতর্কবার্তা প্রদান করা এবং পরবর্তী সময়ে অটোমেটেড নম্বর প্লেট রিডার (এএনপিআর) যুক্ত করে ভিডিও মামলার ব্যবস্থা করার পরিকল্পনাও রয়েছে। নতুন এই প্রযুক্তি ট্রাফিকে যুক্ত হলে রাজধানীতে যানজট অনেকাংশে কমে আসবে।
সম্প্রতি ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান ডিএমপি সদর দপ্তরে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ড্রোন সার্ভিলেন্স বিশ্বের অনেক দেশেই প্রচলিত রয়েছে। তবে আমাদের জন্য এটি একেবারেই নতুন একটি কনসেপ্ট। অসংখ্য সময় দেখা যায় যে, সড়কের পাশাপাশি ফ্লাইওভার এবং এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতেও যানজট সৃষ্টি হয়। অনেক সময় এসব যানজটের সঠিক কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না বা জানতে দেরি হয়ে যায়। সেজন্য আমরা চিন্তা করেছি, যদি আমরা গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থানে ড্রোন সার্ভিলেন্স চালু করতে পারি, তাহলে এটি আমাদের তাৎক্ষণিক রিয়েল টাইম ইনফরমেশন সরবরাহ করবে। এর ফলে আমাদের জন্য নির্দেশনা দেওয়া সহজ হবে।
এছাড়া, তিনি আরও বলেন, যদি ড্রোনে অটোমেটিক নাম্বার প্লেট রিকগনিশন (এএনপিআর) প্রযুক্তি সংযুক্ত করা হয়, তবে এখান থেকে ভিডিও মামলা দেওয়া সম্ভব হবে।
আনিছুর রহমান বলেন, ঢাকা শহরে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো বাসগুলো নির্দিষ্ট বাস স্টপেজে থামে না। বাসগুলো থামার প্রধান কারণ হলো মালিকপক্ষ থেকে তাদের কন্টাক্ট দেওয়া হয়। এগুলো মালিকের নিয়ন্ত্রণে নেই। শ্রমিকরা বাস কন্টাক্ট নিয়ে চালায়। বাসের অবস্থার ওপর ভিত্তি করে পার ডে তারা মালিককে টাকা দেয়। এই টাকা দেয়ার ফলে নিজেদের মধ্যে কম্পিটিশন তৈরি হয় যে, তাদের প্রতিদিন নির্দিষ্ট টাকা লাভ করতে হবে। প্রতিযোগিতার কারণে বাসগুলো যাত্রী ছাউনিতে না থেমে ইচ্ছেমতো যেখানে সেখানে থামে এবং পেছনের রাস্তা ব্লক করে দেয়।
তিনি আরও বলেন, উন্নত দেশগুলোতে নির্দিষ্ট সময় পরপর বাস চলাচল করে। কোন বাসের পর কোন বাস আসবে এবং কোন বাস কখন কোথায় দাঁড়াবে, এসব কিছু একটি নির্দিষ্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হয়। আমাদের দেশে এ ধরনের ব্যবস্থা নেই। এ কারণে বাসগুলো যাত্রী পাওয়ার জন্য একে অপরের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে। ফলে ঢাকা শহরের প্রায় সমস্ত বাসের গায়ে অসংখ্য দাগ ও ক্ষত দেখা যায়। এটি দেখতে অনেকটা বসন্ত রোগীর মুখের মতো। যতক্ষণ পর্যন্ত এই সমস্যা বন্ধ না হবে এবং ই-টিকিটিং সিস্টেম ও বাস রুট রেশনালাইজেশন এই দুটি কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন না করা হবে, ততদিন পর্যন্ত এই ভোগান্তি কমবে না।
ড্রোনগুলো ঠিক কী ধরনের কাজ করবে, এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ড্রোনে ভয়েস বা শব্দের ব্যবস্থা থাকবে। এর মাধ্যমে আইন ভঙ্গকারী যানবাহনকে সতর্কবার্তা দেওয়া যাবে। যেমন, যদি কোনো গাড়ি যানজট সৃষ্টি করে, তবে ড্রোন থেকে বলা যাবে, ‘আপনি যানজট সৃষ্টি করছেন, সরে যান।’
তিনি বলেন, ড্রোনের মাধ্যমে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় মামলা করা সম্ভব হবে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের ট্রাফিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। তবে এটি এখনো একেবারেই প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। একটি সংস্থা পরীক্ষামূলকভাবে আমাদের কাছে একটি ড্রোন প্রদান করেছে। আমরা সেটি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছি এবং আশা করছি, খুব দ্রুত এটি মাঠপর্যায়ে ব্যবহার শুরু করতে পারব।
ড্রোনের মাধ্যমে রিয়েল টাইম ডেটা সরাসরি পাওয়া যাবে কিনা এই প্রশ্নের উত্তরে আনিছুর রহমান বলেন, একদম রিয়েল টাইম ডেটা পাওয়া সম্ভব। তবে, এগুলো পেতে আমাদের অবকাঠামো দরকার। কারণ এগুলো সবই ইন্টারনেট বেইজড, সার্ভার বেইজড। এগুলোর জন্য স্পেস এবং অবকাঠামো দরকার। এসবের জন্য ব্যয় হবে, কারণ প্রতি মুহূর্তে খরচ রয়েছে। আপনি যখন ইন্টারনেট ব্যবহার করবেন, তখন সেটি আপনাকে কারো না কারো কাছ থেকে নিতে হবে। সেখানে খরচ নিশ্চিত।
ড্রোনের মাধ্যমে যে মামলা হবে, সেটি কি স্বয়ংক্রিয়ভাবে হবে, নাকি ফুটেজ দেখে ম্যানুয়ালি মামলা দেওয়া হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বর্তমানে আমরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা দেওয়ার পর্যায়ে নেই। তবে এভাবে মামলা দেওয়া সম্ভব। কিন্তু এতে ভুল হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। আমরা সে দেশের নাগরিক এবং এখানেই বসবাস করি। তাই আমরা চাই, কারো সঙ্গে সামান্যও অনিয়ম বা অন্যায় না হয়। এজন্য মামলা ফুটেজগুলো প্রথমে বিশ্লেষণ করি। এরপর মামলা দেওয়া হয়।
তিনি আরো জানান, আমি বারবার সবাইকে একটি কথা বলি, মামলার সংখ্যা দিয়ে কখনো কাজের মান বিচার করা যায় না। বরং বেশি মামলা হওয়ার অর্থ হলো, বেশি মানুষ ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন করছে। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে বেশি মামলা দেওয়া নয়। আমাদের একমাত্র লক্ষ্য হলো- মানুষ যেন সড়ক আইন মেনে চলে।
ড্রোন পরিচালনার জন্য আলাদা প্রশিক্ষণ প্রয়োজন কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বলেন, ড্রোন চালানো একটি কারিগরি বিষয়। তাই আমরা ইতোমধ্যে আমাদের সদস্যদের প্রশিক্ষণ প্রদানের কার্যক্রম শুরু করেছি। প্রথমে তেজগাঁও বিভাগ থেকে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সেখানে আমাদের একটি দল ইতোমধ্যে প্রশিক্ষণ নিয়েছে। পরবর্তী ধাপে উত্তরা বিভাগের সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী সপ্তাহ থেকে তাদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হবে।
আনিছুর রহমান বলেন, শুরুতে কিছুটা সময় লাগবে। কারণ আমরা আগে এভাবে কাজ করিনি। আমরা শুরুতে ট্রাফিক সিগন্যাল নিয়ে কাজ শুরু করেছি। শাহবাগ থেকে শুরু করে ১৪টি এবং লেক রোডে একটি মোট ১৫টি সিগন্যাল এআই প্রযুক্তির আওতায় আনা হয়েছে। এর পাশাপাশি ডিএমপির অন্যান্য সিগন্যালও রয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা প্রথমে দেখতে চেয়েছিলাম, এই ব্যবস্থা কাজ করে কিনা। আপাতত কাজ করছে। তবে সমস্যা যে নেই তা নয়, সমস্যা রয়েছে। তারপরও আমরা চেষ্টা করছি, মানুষ যেন ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে চলতে শেখে। তবে এই অভ্যাস গড়ে উঠতে কিছুটা সময় লাগবে। আশা করি, ড্রোনের ক্ষেত্রেও সময় লাগবে। আমরা এটি পরীক্ষা করে দেখব। যদি কোনো নেতিবাচক দিক দেখা যায়, তবে এটি চালু করা হবে না।
সূত্র: বাসস
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন