প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা নাগরিকদের উদ্ধারের জন্য সরকার একটি উচ্চপর্যায়ের নতুন কমিটি গঠন করেছে। সরকারের এই নতুন পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হচ্ছে রোহিঙ্গাদের দ্রুত ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা। উক্ত কমিটির নাম ‘রোহিঙ্গা বিষয়ক জাতীয় কর্মকৌশল প্রণয়ন কমিটি’ এবং এই কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন প্রধানমন্ত্রী নিজেই।
সরকারের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ রোববার (১২ জুলাই) একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে এই কমিটি গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। ১১ সদস্যের এই কমিটিতে সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা এবং আইন-শৃঙ্খলা ও গোয়েন্দা বাহিনীর কর্মকর্তারা অন্তর্ভুক্ত আছেন।
প্রজ্ঞাপনের উল্লেখ অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী কমিটির সভাপতি থাকবেন। সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত থাকবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা। কমিটির ‘প্রধান সমন্বয়ক’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের (এএফডি) প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার। অন্যদিকে, প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) মহাপরিচালক সদস্যসচিব হিসেবে কাজ করবেন।
অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন পুলিশের আইজিপি, এনএসআইয়ের মহাপরিচালক, বিজিবির মহাপরিচালক এবং বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক। ৫ জন শীর্ষ কর্মকর্তাকে সহায়তা করার জন্য কমিটিতে যুক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন— শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি), স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) অতিরিক্ত আইজিপি এবং অন্যান্য সংস্থা প্রধান।
কমিটির কার্যপরিধিতে এটি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করবে এবং বিভিন্ন সংস্থার কার্যক্রমের তদারকি করবে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাজের পরিধি সুনির্দিষ্ট করতে এটি কাজ করবে।
এছাড়া, প্রধান সমন্বয়কের তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ ‘পর্ষদ’ গঠন করা হবে। এই পর্ষদ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর দায়িত্ব নির্ধারণ করবে এবং রোহিঙ্গাদের উচ্চতর ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য একটি কৌশল তৈরি করবে। এই বিশেষ ‘পর্ষদ’ আগামী ৩ মাস বা ৯০ দিনের মধ্যে তাদের কৌশল জাতীয় কমিটির কাছে জমা দেবে।
কমিটির প্রয়োজনীয় জনবল ও অবকাঠামোগত সুবিধা দেবে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই)। তবে, প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, পরবর্তীতে কমিটির সিদ্ধান্ত অনুসারে অন্য যেকোনো গোয়েন্দা সংস্থা বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থানকে দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে।
কমিটি প্রয়োজনে যেকোনো সামরিক বা বেসামরিক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রধান বা উপযুক্ত ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন