প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
শুক্রবার অপ্রতিম বন্ধুদের সঙ্গে নামাজ আদায় করেছিল। নামাজ শেষ হওয়ার পর সে বলেছিল, বাড়িতে যাবে। পরের দিন সে নিখোঁজ হয়ে যায়। দুই দিন পর রোববার, তার বন্ধুরা তাকে শেষ বিদায় জানান।
কুমিল্লার লালমাই পাহাড়ের জঙ্গলে অপ্রতিমের লাশ উদ্ধার করা হয় এবং তার দাফন সম্পন্ন হয়।
রোববার বেলা ১১টার দিকে দ্বিতীয় জানাজা শেষে কোটবাড়ি বাগমারা কবরস্থানে অপ্রতিমকে দাফন করা হয়।
এ সময় তার স্বজন, সহপাঠী ও বন্ধুরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। তারা মেনে নিতে পারছেন না যে, প্রিয় বন্ধুকে আর কখনো ক্লাশে দেখতে পারবেন না।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের ছেলে অপ্রতিমের বন্ধুদের কাছে তার শেষ কয়েক দিনের স্মৃতি এখন শুধুই বেদনার।
অপ্রতিমের এক বন্ধু বলেন, ‘শুক্রবারও অপ্রতিম আমাদের সঙ্গে নামাজ পড়েছিল। নামাজের পর সে বলেছিল, বাড়িতে যাবে। এরপর সে বাড়িতে চলে যায়। কে জানত, সেটাই আমাদের শেষ দেখা।’
এর আগের দিন বৃহস্পতিবারও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটিয়েছিল অপ্রতিম। কুরআনিক ক্লাবে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি সে বন্ধুদের সঙ্গে ফুটবলও খেলেছিল।
আরেক বন্ধু বলেন, ‘আমরা বৃহস্পতিবার কুরআনিক ক্লাবে একসঙ্গে ছিলাম। সেখানে সময় কাটিয়েছি। ফুটবলও খেলেছিলাম। এরপর কথা বলতে বলতে বাসায় এসেছিলাম। তখন তো ভাবিনি, এটাই তার সঙ্গে আমাদের শেষ সময়।’
শেষ কথোপকথনের স্মৃতিও আরেক বন্ধু ভুলতে পারছেন না। তিনি বলেন, আমি শেষবার তার সঙ্গে ফুচকা খেতে যেতে চেয়েছিলাম। সে বলেছিল- ‘না, আমি ফুচকা খাব না। টাকা নেই’। এটাই ছিল তার সঙ্গে আমার শেষ কথা।
অপ্রতিমের বন্ধু নাসিম বলেন, ‘আমার বন্ধুকে আর ক্লাশে দেখব না। এই অনুভূতিটা আসলে বলে বোঝানোর মতো না। আমরা আর কোনো বন্ধুকে হারাতে চাই না।’
বন্ধুরা বলেন, একজনকে হারালে এটি শুধুমাত্র একটি পরিবার নয়, বরং তার বন্ধুমহল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও একজন আপনজনকে হারায়। তাদের আশঙ্কা, অপ্রতিমের সঙ্গে যা ঘটেছে, ভবিষ্যতে অন্য কারও সঙ্গেও এমন ঘটনা ঘটতে পারে।
তারা বলেন, এ ঘটনার দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে হবে। অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন