প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে সালমান শাহ একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসেবে পরিচিত। তিনি যেন এসেছিলেন এবং জয় করে নিয়েছিলেন কোটি ভক্তের হৃদয়। সালমান শাহ ছিলেন বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের বাঁক ঘোরানো এক তুমুল জনপ্রিয় অভিনেতা এবং ফ্যাশন আইকন। ঢালিউড সিনেমার অমর নায়ক হিসেবেও তার পরিচিতি রয়েছে।
তার অকালপ্রয়াণের তিন দশক পরেও সেই ভালোবাসা একটুও কমেনি। বরং সময়ের সাথে সাথে সালমান শাহ বাংলা চলচ্চিত্রের নস্টালজিয়ার অন্যতম নাম হয়ে উঠেছেন। তার সিনেমা মানে নব্বইয়ের দশকের রোমান্টিকতা, তারুণ্যের আবেগ এবং দর্শকের ভালোবাসায় ভরা এক স্বর্ণালি অধ্যায়।
আজ রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) এই স্বপ্নের নায়ককে হারানোর ৩০ বছর পূর্ণ হলো। মাত্র ২৫ বছর বয়সে ১৯৯৬ সালের এই দিনে অসংখ্য ভক্তকে কাঁদিয়ে তিনি না ফেরার দেশে চলে যান। তার মৃত্যুবার্ষিকী এলেই বিশেষ শহরের দাড়িয়া পাড়ার নানার বাসায় ভক্তদের আসা যাওয়ার সংখ্যা বাড়তে থাকে। কারণ এই বাসাতেই সালমান শাহের ছোটবেলা কেটেছে।
সালমানের মামা কুমকুম জানান, দূরন্ত সময়টা তিনি সেখানেই কাটিয়েছেন। বাংলাদেশের সিনেমার ইতিহাসে সালমান শাহ ছিলেন এক সৃষ্টিকারী নায়ক। দেখতে দেখতে তার মৃত্যুর ৩০ বছর পেরিয়ে গেছে। মৃত্যুর এত বছর পরেও তিনি এখনো আকাশচুম্বী জনপ্রিয়, এবং দর্শকের প্রিয় নায়ক তিনিই। টিভি পর্দায় যখন তার সিনেমা প্রচার হয়, দর্শক আগ্রহ নিয়ে তা দেখেন। তার অভিনীত সিনেমার গান টিভিতে প্রচার হলে দর্শক তা এড়িয়ে যেতে পারেন না। ডিজিটাল ম্যাপ দেখুন।
এমনও দেখা গেছে যে, পাশাপাশি দুটি চ্যানেলে একটিতে নতুন কোনো সিনেমা প্রচার হচ্ছে, আবার অন্যটিতে সালমান শাহ’র সিনেমা। তখন দর্শক যেন সালমান শাহ’র সিনেমা দেখার প্রতি বেশি আগ্রহ প্রকাশ করেন। আবার শুধুমাত্র সালমান শাহ’র সিনেমার ক্ষেত্রেই এমন দেখা গেছে যে, সিনেমা প্রচারের সময় নারী-পুরুষ দর্শক শুধুমাত্র সালমান শাহ’র পারফর্ম্যান্সই বেশি উপভোগ করেন। তার সঙ্গে কে আছেন, তা কখনোই জরুরি বিষয় নয় দর্শকের কাছে।
মৃত্যুর এত বছর পরেও সালমান শাহ তার দুর্দান্ত অভিনয় এবং ফ্যাশনের মাধ্যমে আজো দর্শকের হৃদয়ে গেঁথে আছেন। সবার প্রিয় নায়ক সালমান শাহ’র জন্ম ১৯৭১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সিলেট জেলার জকিগঞ্জ উপজেলায়। তার পিতার নাম কমর উদ্দিন চৌধুরী এবং মাতা নীলা চৌধুরী। সালমানের দাদার বাড়ি সিলেট শহরের শেখঘাটে এবং নানার বাড়ি দারিয়া পাড়ায়।
এখন সেই বাড়ির নাম ‘সালমান শাহ হাউজ’। তার নানা তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’-এ অভিনয় করেছিলেন। অভিনয়ে সালমানও তাই সেই নানার কারণে আসেন। স্কুলে পড়ার সময় সালমান বন্ধুমহলে সংগীতশিল্পী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ১৯৮৬ সালে ছায়ানট থেকে পল্লীগীতিতে পাস করেন তিনি। চলচ্চিত্রে আসার আগেই ১৯৯২ সালের ১২ আগস্ট বিয়ে করেন। তার স্ত্রী ছিলেন সামিরা হক।
যদিও সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমায় অভিনয় করে আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা পান সালমান শাহ। তবে তার আগেই তিনি নাটকে অভিনয় শুরু করেন। মঈনুল আহসান সাবেরের লেখা ধারাবাহিক ‘পাথর সময়’-এ একটি চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে সালমান শাহ’র অভিনয় জীবন শুরু হয়। ওই নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্রে তৌকীর আহমেদ অভিনয় করলেও সালমান শাহ’র চরিত্রটি ছিল যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। পরবর্তীতে আরো বেশকিছু নাটকে অভিনয় করে তিনি দারুণ প্রশংসিত হন। সিনেমার পাশাপাশি নাটকেও তার উপস্থিতি দর্শকের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। স্মার্ট টিভি বাছুন।
যদিও মৌসুমীর সঙ্গে সিনেমাতে সালমানের অভিষেক ঘটে। পরবর্তীতে মৌসুমীর সঙ্গে আরো দুটি সিনেমা ‘স্নেহ’, ‘অন্তরে অন্তরে’তে অভিনয় করলেও আর কোনো সিনেমাতে তাদের দেখা যায়নি। শাবনূরের সঙ্গেই বেশি সিনেমাতে অভিনয় করেছেন সালমান শাহ। যে জুটিকে এখনো সিনেমার অন্যতম সেরা জুটি হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়।
সালমান শাহের সঙ্গে জুটি হয়ে আরো অভিনয় করেছিলেন শাবনাজ, শাহনাজ, লিমা, শিল্পী, শ্যামা, সোনিয়া, বৃষ্টি, সাবরিনা এবং কাঞ্চি।
সালমানের মৃত্যুর এত বছর পরেও বাংলা সিনেমাতে অনেক নায়কের আবির্ভাব ঘটলেও, অভিনয় এবং ফ্যাশনের মাধ্যমে আর কোনো নায়ক আজ পর্যন্ত সালমান শাহর জনপ্রিয়তাকে ছাপিয়ে যেতে পারেনি। অনেক চলচ্চিত্র প্রযোজক ও পরিচালকের ভাষ্যমতে, সালমান শাহ ছিলেন ধুমকেতুর মতো, এসেছিলেন, দেখেছিলেন, জয় করেছিলেন এবং আবার চলে গেছেন।
কোনো নায়কের মৃত্যুর এত বছর পরেও ভক্তদের হৃদয়ে এতটা ভালোবাসা নিয়ে বেঁচে থাকার দৃষ্টান্ত পৃথিবীর আর কোনো দেশের কোনো নায়কের ক্ষেত্রে দেখা যায়নি। যে সময়টাতে সালমান চলে যান, সেই সময়টাতে যারা ছোট ছিলেন, তাদের কাছে সালমান শাহ ছোটবেলার গল্পের বিষয় ছিলেন। তারা মনে মনে স্বপ্ন দেখেন, ইস! যদি একবার ফিরে আসতেন সালমান শাহ। কিন্তু মৃত্যুই সত্য, যে চলে যায় সে চলে যায় এবং ফিরে আসেনা কখনো।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন