প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘সাধারণ শিক্ষার্থীকে রাজনৈতিক পরিচয়ের অভিযোগ তুলে ব্যক্তিগতভাবে হয়রানি, মানহানি এবং নবগঠিত কমিটিতে দায়িত্ব থেকে বঞ্চিত করা’।
রোববার (১২ জুলাই) ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের লালন শাহ হল ডিবেটিং সোসাইটির কার্যনির্বাহী সদস্য মিশুক শাহরিয়ার সংগঠনের মডারেটর বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করেন।
উক্ত অভিযোগপত্রে তিনি দাবি করেছেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটির (আইইউডিএস) নির্বাচন, হল ডিবেটিং সোসাইটির কমিটি গঠন এবং অন্যান্য সাংগঠনিক কার্যক্রমে ব্যক্তিগত প্রতিহিংসার কারণে তাকে বিঘ্নিত ও হয়রানি করা হয়েছে। বিশেষভাবে লালন শাহ হল ডিবেটিং সোসাইটির সেক্রেটারি এবং বর্তমান আইইউডিএস সভাপতি ইয়াছিন আলীর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ করেছেন তিনি।
লিখিত অভিযোগে মিশুক শাহরিয়ার বলেন, আইইউডিএস নির্বাচনে অংশগ্রহণের সময় হল কর্তৃপক্ষকে যথাযথভাবে অবহিত করা সত্ত্বেও নির্বাচনের দিন তাকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়। একাধিক বার তাকে ‘রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত’ আখ্যা দিয়ে কমিটিতে না রাখার বিষয়টি বলা হয়েছে। একই সাথে, তার কোথায় যাওয়া, কার সঙ্গে চলাফেরা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কী পোস্ট করা হচ্ছে, এসব বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হয়েছে। জুনিয়র সদস্যদের কাছে তার সম্পর্কে ভুল তথ্য উপস্থাপন এবং হল প্রভোস্টের কাছে অসত্য তথ্য দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি আরও জানান, একটি বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে যখন দল নিবন্ধিত ছিল, তখন দলের এক সদস্যকে ফোন করে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকতে চাপ দেওয়া হয়। এছাড়া আয়োজকদের কাছে তার নিবন্ধিত দল বাতিলের জন্য অনুরোধ করা হয়েছিল।
আরও অভিযোগ রয়েছে যে, আইইউডিএসের ২০২৬-২৭ কার্যবর্ষের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের সময় নির্বাচনকালীন উপদেষ্টা পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুসরণ করা হয়নি। যদিও তিনি সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হয়েছিলেন, কিন্তু কমিটিতে কোনো দায়িত্ব তাকে দেওয়া হয়নি। অথচ হল কমিটির আনুষ্ঠানিক সদস্য নন এমন একজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ জানিয়েছেন।
এসব ঘটনার বিচার চেয়ে তিনি চার দফা দাবি করেছেন। যার মধ্যে ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা ও স্বার্থসিদ্ধির কারণে ঘটনার তদন্ত ও বিচার, ব্যক্তি স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ ও মানহানির অভিযোগের সমাধান, নির্বাচনকালীন উপদেষ্টা পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আইইউডিএসের কমিটি পুনর্গঠন এবং ভিন্ন মতাদর্শের ব্যক্তিদের সংগঠন থেকে বাদ দেওয়ার অভিযোগ খতিয়ে দেখার দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আইইউডিএস সভাপতি ইয়াছিন আলী বলেন, “সংগঠনের প্রতিটি সিদ্ধান্ত সবার মতামতের ভিত্তিতে নেওয়া হয়। কাউকে রাজনৈতিক ট্যাগিং দিইনি। মিশুক শাহরিয়ারের অভিযোগ ভিক্তিহীন। তার চেয়ে সম্ভাবনাময় ও যোগ্য সদস্য থাকায় তাকে কমিটিতে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। এখানে কারও ব্যক্তিগত ইচ্ছা বা আক্রোশ থেকে পদবঞ্চিত করা হয়নি। তাছাড়া সংগঠনের সিদ্ধান্ত আমার একার ওপর নির্ভর করে না, সবার মতামতের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”
রাজনৈতিক পরিচয় থাকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “রাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়ে যিনি বিতর্কের মাধ্যমে নিজেকে উপস্থাপন করবেন, তিনিই এখানে জায়গা পাবেন। রাজনীতি সম্পর্কে আমাদের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা নেই, তবে কেউ রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত করতে পারবেন না।”
অভিযোগের বিষয়ে সংগঠনটির মডারেটর অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান বলেন, “পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করার আগেই মিশুক নামের সদস্য অভিযোগ করেছিল। সংশ্লিষ্টদের ডেকে কথা বলেছি এবং মিশুক তখন পূর্ণাঙ্গ কমিটি দিতে সম্মতি জানায়। এরপরও সে কয়েক দিন সময় চেয়েছে। আমি এক সপ্তাহ সময় দিয়েছিলাম। সে আর কোনো আপডেট জানায়নি। পূর্ণাঙ্গ কমিটি হওয়ার পর সে আবার নতুনভাবে অভিযোগপত্র দিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বসে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ভোটের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচন হয়েছিল। এতে কোনো সমস্যা নেই। যেহেতু বেশ কিছু অভিযোগ নির্দিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে, সেগুলো আলোচনা করে দেখতে হবে।”
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন