প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ মন্তব্য করেছেন যে, বিচার ব্যবস্থায় যারা অবস্থান করে, আওয়ামী লীগ তাদেরকেও কিনে ফেলে।
তিনি বলেন, "আওয়ামী লীগ যে ইতিহাস সৃষ্টি করে গেছে, সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি আমরা হতে দেব না।" তিনি আরও উল্লেখ করেন, "তাদের প্রতিমন্ত্রীর যে ৫০০ বাড়ি, তাদের নেতার ছেলে ইহুদি বিয়ে করে আমেরিকাতে কয়েকটি বিশাল প্রাসাদ গড়ে তুলেছে।" স্পিকার বলেন, "এদের যে কি ধন-সম্পত্তি কল্পনা করতে পারবেন না। আসলে এগুলো হলো চোর। চুরি করে আর লুটপাট করে নিয়ে গেছে।"
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) লালমোহন উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এই সংবর্ধনার আয়োজন করে লালমোহন উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপি।
হাফিজ উদ্দিন বলেন, "এদের (আওয়ামী লীগ নেতা) টাকার এত শক্তি, এদেরকে শাস্তি দেয়াও খুব মুশকিল। সবকিছু তারা কিনে ফেলে। বিচার ব্যবস্থায় যারা থাকে তাদেরকেও কিনে ফেলে।" তিনি উল্লেখ করেন, "তাদের বিরুদ্ধে মামলাও শক্তভাবে করা হয় না। বিদেশের সরকারগুলোও ভাবে যে, হাজার হাজার কোটি টাকা আমার দেশে আনছে, আমার দেশে বিনিয়োগ করতেছে, আমার দেশে মিল-ফ্যাক্টরি করছে, ওরাও চুপ করে বসে থাকে।"
স্পিকার বলেন, "বিশ্বব্যবস্থায় নানা অনৈতিক কাজকর্ম হয়, সেগুলোতে প্রথম সারিতে আছে এই বাংলাদেশের আওয়ামী লীগের নেতারা। তারা যে বিশাল লুটপাট করে গেছে, রাজার হালে এরা বিদেশে আছে।" তিনি বলেন, "ভারতে প্রসাদের মধ্যে থাকে, আমেরিকাতেও বড় বড় প্রাসাদ আছে। কানাডার বেগমপাড়া এলাকায় শত শত বাড়ি আছে আওয়ামী লীগের এমপিদের।"
তিনি ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের সংশোধনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, "ইতোমধ্যেই দেখেছেন ঢাকায় একজন মহিলা এমপির নাম উঠে এসেছে, তার বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে একটা হাসপাতাল দখল করার জন্য।" তিনি উল্লেখ করেন, "তাকে প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করার নির্দেশ দিয়েছেন গতকালকে বা পরশুদিন সাদেক হোসেন খোকার ছেলে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, তিনিও পদত্যাগ করেছেন।"
স্পিকার বলেন, "ইশরাক হোসেন কাজটা ভালোই করেছেন।" তবে তিনি বলেন, "তবে তার হাতে অস্ত্র নেয়াটা ঠিক হয় নাই, এটা মানায় না।" তিনি বলেন, "সরকারের প্রতিমন্ত্রী, তার সাথে তো বডিগার্ড আছে, পুলিশ বাহিনী যদি দুর্বল হয় দলীয় কর্মী বাহিনী যেতে পারে। কিন্তু একজন নেতা, মন্ত্রী পর্যায়ের, তাদের হাতে অস্ত্র আইনি হোক কি বেআইনি হোক, এটা শোভা পায় না।"
স্পিকার বলেন, "আমাদের জন্য এই গত ১৫-১৬ বছর ছিল এক মসীদৃপ্ত কলঙ্কময় অধ্যায়।" তিনি বলেন, "এরকম লুটপাট পৃথিবীর কোনো দেশে রাজনৈতিক নেতারা করতে পারে নাই, যেটা আওয়ামী লীগ, শেখ হাসিনা এবং তার এই সন্ত্রাসী এমপিগুলো গত ১৫ বছরে করে গিয়েছে।"
তিনি বলেন, "তত্ত্বাবধায়ক সরকার দেড় বছর ছিল, বিএনপি সরকারেরও তো প্রায় এক বছর হচ্ছে, এখন পর্যন্ত কারও তো বাড়িটাড়ি উঠে নাই কোনো জায়গায়।" তিনি বলেন, "বিদেশে যাওয়ার সুযোগ পায় নাই, লুটপাট করার সুযোগ পায় নাই, মাঝখান থেকে অন্যায় করলে মন্ত্রিত্ব, এমপিত্ব চলে যাচ্ছে। সুতরাং আমরা ন্যায়বিচারের একটা দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করতে চাই।"
সভায় বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক সফিকুল ইসলাম বাবুলসহ স্থানীয় নেতারা।
সভায় শুরুতে উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সম্পাদক স্পিকারকে ধানের শীষ প্রতীকের সোনার স্মারক দেন।
এছাড়া ইউনিয়ন পৌর বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে স্পিকারে ফুলের শুভেচ্ছা জানান। সভায় দরিদ্রদের মধ্যে সরকারি সহায়তার চেক বিতরণ করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন