প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
এক ব্যক্তি নিখোঁজ ছিলেন তিন দিন ধরে। তার পরিবার সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। এতে হতাশ হয়ে স্বজনরা বাড়ির পাশে মাছির উড়ন্ত অবস্থার দিকে নজর দেন। সন্দেহ হলে মাটি খুঁড়লে একটি হাত বেরিয়ে আসে। পরে পুলিশ এসে মাটিতে চেপে রাখা নিখোঁজ ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে। সোমবার (২৯ জুন) বরিশালের মুলাদী উপজেলার চরমালিয়া গ্রামে এই ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার প্রেক্ষিতে নিহতের স্ত্রী সেলিনা বেগমকে (৪২) পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। নিখোঁজ ব্যক্তি মো. হারুন হাওলাদার (৬০) ছিলেন চরমালিয়া গ্রামের বাসিন্দা। নিহতের ছেলে এইচ এম জাফর হাওলাদার জানান, তার বাবা ২৭ জুন রাত থেকে নিখোঁজ ছিলেন। পরে তার মা মাধ্যমে খবর পাওয়া যায়, গভীর রাতে তিনজন অজ্ঞাত ব্যক্তি বাড়িতে এসে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির সময় তার বাবাকে মুখ বেঁধে নিয়ে যায় তারা। পরবর্তীতে থানায় অপহরণের অভিযোগও করা হয়েছিল। জাফর বলেন, এরপর বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও বাবার সন্ধান পাওয়া যায়নি। সোমবার সকালে রান্নাঘরের পাশে মাছির উড়ান দেখে তিনি সন্দেহ করেন। তখন সেখানে খোঁড়াখুঁড়ি করলেও গর্তের নিচ থেকে একটি হাত বের হয়। খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে লাশ উদ্ধার করে।
জাফর হাওলাদার আরও জানান, নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই পুলিশ তার মাকে সন্দেহের তালিকায় রেখেছিল। মোবাইল ফোনের কললিস্টসহ বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে তার মাকে নজরদারিতে রাখা হয়েছিল। লাশ উদ্ধারের পর পুলিশ তাকে হেফাজতে নেয়। আরও অভিযোগ করেন, তার মা এবং তার কথিত পরকীয়ার এক সহযোগী মিলে তার বাবাকে হত্যা করে থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অন্য কারো নাম বলতে রাজি হননি তিনি। মুলাদী থানার ওসি কেএম সোহেল রানা বলেন, নিখোঁজ হারুন হাওলাদারের মাটিচাপা দেওয়া লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। নিহতের স্ত্রীকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনার সঙ্গে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন