প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি পয়েন্টই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পয়েন্ট টেবিলের চার নম্বরে অবস্থানরত বাংলাদেশের জন্য ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চারটি টেস্ট ম্যাচ তাই বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
ঘরের মাঠের সুবিধা কাজে লাগানোর লক্ষ্যে, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে অনুষ্ঠিতব্য দুই টেস্টের একটি চট্টগ্রামের পরিবর্তে সিলেটে আয়োজনের পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তবে, ভেন্যু সম্পর্কে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
ইংল্যান্ড সিরিজের ভেন্যু নিয়ে বিসিবির একজন কর্মকর্তা বলেন, "সিলেটে খেলা হওয়ার সম্ভাবনা জোরালো, তবে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।"
মিরপুরে বাংলাদেশের সাফল্য থাকলেও, চট্টগ্রাম সাম্প্রতিক সময়ে সেই আস্থা অর্জন করতে পারছে না। অতিরিক্ত ফ্ল্যাট উইকেট এবং মাঠের অন্যান্য বিষয় নিয়ে বিসিবির উদ্বেগ রয়েছে। আসন্ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের জন্যও টেস্টের ভেন্যু হিসেবে মিরপুর ও সিলেটকে বিবেচনা করা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিসিবির একজন কর্মকর্তা জানান, "চট্টগ্রামে আমরা টেস্ট খেলতে চাই না, কারণ সেখানকার উইকেট বড্ড ফ্ল্যাট।"
বিসিবির এই অবস্থান থেকে বোঝা যায় যে, বাংলাদেশের উঠতি পেস আক্রমণও চট্টগ্রামের উইকেটে সুবিধা পাচ্ছে না। ম্যানেজমেন্ট সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন সিরিজগুলোতে এমন উইকেটের প্রয়োজন যেখানে পেস এবং স্পিনের মধ্যে ভারসাম্য থাকবে।
ফলাফলকেন্দ্রিক টেস্ট ক্রিকেটে নির্দিষ্ট ভেন্যুর গুরুত্ব নিয়ে আগেই মন্তব্য করেছেন ভারতের সাবেক স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিন। তিনি ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের জয়ের পর লিখেছিলেন, "বাংলাদেশের দুর্দান্ত জয়! এটি নির্দিষ্ট টেস্ট সেন্টারের গুরুত্ব আবার প্রমাণ করল।"
চট্টগ্রামের মাঠে বাংলাদেশের পরিসংখ্যানও খুব একটা সন্তোষজনক নয়। এই ভেন্যুতে ২৬ টেস্ট খেলে বাংলাদেশ মাত্র তিনটিতে জিতেছে, ১৬টিতে হারিয়েছে এবং সাতটি ড্র করেছে। অর্থাৎ, ঘরের মাঠ হলেও চট্টগ্রাম বাংলাদেশের জন্য খুব একটা ফলপ্রসূ ভেন্যু হয়ে উঠতে পারেনি।
অন্যদিকে, চট্টগ্রামে বাংলাদেশের বিপক্ষে চমক দেখিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ২০২১ সালে ম্যাচের পঞ্চম দিনে স্পিনারদের সহায়তা থাকা সত্ত্বেও, কাইল মেয়ার্সের দুর্দান্ত দ্বিশতকে ভর করে ৩৯৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করে ম্যাচ জিতে নিয়েছিল ক্যারিবীয়রা।
অন্যদিকে, সিলেটে বাংলাদেশের রেকর্ড তুলনামূলকভাবে ভালো। ছয় টেস্ট খেলে টাইগাররা তিনটিতে জয় অর্জন করেছে। বিশেষ করে ২০২৩ সালে নিউজিল্যান্ড এবং ২০২৬ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিলেটের জয় বাংলাদেশের টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালের দৌড়ে থাকতে প্রতিটি পয়েন্টই এখন বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান। তাই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না এলেও বাস্তবতার চাপে চট্টগ্রামকে পিছনে রেখে ঢাকা ও সিলেটকে টেস্টের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার দিকে এগোচ্ছে বিসিবি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন