প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
সরকার আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে ছয়টি নতুন কূপ খনন এবং আটটি স্থগিত কূপের ওয়ার্কওভার সম্পন্ন করার মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ১০৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এই কর্মসূচির বাস্তবায়নে রাষ্ট্রীয় কোম্পানি বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল) কাজ করে যাচ্ছে।
বিজিএফসিএলের মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী আশরাফুল আলম রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) জানিয়েছেন, সরকারের ১৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ক্রমবর্ধমান গ্যাসের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে বিজিএফসিএল পাঁচটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।
তিনি আরও জানান, প্রতিষ্ঠানটি অতিরিক্ত দৈনিক ১২৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার প্রত্যাশায় নয়টি নতুন কূপ খনন এবং বিদ্যমান ১২টি কূপের ওয়ার্কওভার সম্পন্ন করবে।
বিজিএফসিএলের এই কর্মকর্তা বলেন, সরকারের দীর্ঘমেয়াদি মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় ২০৩৫ সালের মধ্যে ১৯টি কূপ থেকে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ২৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিজিএফসিএল সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি ছয়টি গ্যাসক্ষেত্র পরিচালনা করছে, যার মধ্যে রয়েছে তিতাস, হবিগঞ্জ, বাখরাবাদ, নরসিংদী, মেঘনা ও কামতা। প্রতিষ্ঠানটি দেশের মোট অভ্যন্তরীণ গ্যাসের প্রায় ৩০ শতাংশ এবং দেশের সামগ্রিক গ্যাস সরবরাহের প্রায় ১৮ শতাংশ সরবরাহ করে।
ভবিষ্যতে গ্যাস অনুসন্ধান ও উন্নয়নের সম্ভাবনাময় কাঠামো চিহ্নিত করতে বিজিএফসিএল সাইসমিক জরিপ পরিচালনা করছে। বর্তমানে মোট ১ হাজার ৪৫০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ত্রিমাত্রিক (৩ডি) সাইসমিক জরিপ চলছে। এর মধ্যে হবিগঞ্জ গ্যাসক্ষেত্র ও এর সংলগ্ন এলাকায় ৮৭৫ বর্গকিলোমিটার এবং বাখরাবাদ, নরসিংদী ও মেঘনা গ্যাসক্ষেত্র এলাকায় ৫৭৫ বর্গকিলোমিটার রয়েছে।
এছাড়া, তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের উত্তর-পশ্চিম এবং নরসিংদী গ্যাসক্ষেত্রের উত্তর-পূর্ব এলাকায় ৬৩২ বর্গকিলোমিটারজুড়ে ২ডি ও ৩ডি সিসমিক জরিপ পরিচালনা করা হচ্ছে।
‘তিতাস ও কামতা ফিল্ডে চারটি মূল্যায়ন-কাম-উন্নয়ন কূপ খনন’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় তিতাস-২৮ কূপের খননকাজ ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর শুরু হয়ে ২০২৬ সালের ১৯ জুন শেষ হবে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) এই কূপটি জাতীয় গ্রিডের জন্য উদ্বোধন করা হয়। কূপটি থেকে দৈনিক সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে।
বিজGFসিএলের সঙ্গে ২০২৫ সালের ১০ এপ্রিল স্বাক্ষরিত সমন্বিত খনন চুক্তির আওতায় চীনা প্রতিষ্ঠান সিএনপিসি চুয়ানকিং ড্রিলিং ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড (সিসিডিসি) কূপটির খননকাজ সম্পন্ন করে। কূপটি ৩ হাজার ৬০১ মিটার মাপা গভীরতা (এমডি) এবং ৩ হাজার ৪৭১ মিটার প্রকৃত উল্লম্ব গভীরতা (টিভিডি) পর্যন্ত খনন করা হয়।
এছাড়া, আরও গ্যাস উত্তোলনের লক্ষ্যে বিজGFসিএল তিতাস-৩১ ও তিতাস-২৯ গভীর অনুসন্ধান কূপের খননকাজ পরিচালনা করছে। সূত্র: বাসস
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন