প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ফুটবল কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যারাডোনার মৃত্যু সংক্রান্ত চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগে অভিযুক্ত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা সর্বোচ্চ ১২ বছরের কারাদণ্ডের আবেদন করেছেন।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) আদালতে সমাপনী বক্তব্যে কৌঁসুলিরা অভিযোগ করেছেন, ম্যারাডোনার চিকিৎসায় যুক্ত দলের বিশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা তাকে কার্যত অসহায় অবস্থায় ফেলে রেখেছিল।
১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টিনা দলের এই কিংবদন্তি মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের কারণে অস্ত্রোপচারের দুই সপ্তাহ পর বুয়েনস আইরেসের উপকণ্ঠে তিগ্রে এলাকায় ভাড়া বাড়িতে মারা যান।
হৃদ্যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি তীব্র পালমোনারি এডিমায় (ফুসফুসে তরল জমার একটি অবস্থায়) তার মৃত্যু ঘটে। মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল ৬০ বছর।
ম্যারাডোনার চিকিৎসায় যুক্ত ছিলেন তার প্রধান চিকিৎসক, মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, মনোবিজ্ঞানী ও নার্সরা। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, মৃত্যুর আগে তাকে যথাযথ চিকিৎসা ও পরিচর্যা দিতে গুরুতর ব্যর্থতা প্রদর্শন করা হয়েছে। তবে অভিযুক্তরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
সমাপনী বক্তব্যে কৌঁসুলি পাত্রিসিও ফেরাই বলেন, "অভিযুক্তদের বিশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা অসুস্থ ম্যারাডোনাকে অসহায় অবস্থায় ফেলে দিয়েছিল, তাকে তার ভাগ্যের হাতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল।"
তিনি আরও অভিযোগ করেন, অভিযুক্তরা তাদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানের নীতির পরিপন্থী কাজ করেছেন। যেসব পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন ছিল, সেগুলোও তারা নেননি।
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ‘দোলো ইভেনচুয়াল’ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। এই আইনি পরিভাষার অর্থ হলো, কোনো ব্যক্তি তার কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ক্ষতি হতে পারে জেনেও সেটি চালিয়ে যান।
রাষ্ট্রপক্ষ ম্যারাডোনার ব্যক্তিগত চিকিৎসক লিওপোলদো লুকের জন্য সর্বোচ্চ ১২ বছরের কারাদণ্ডের আবেদন করেছে। অন্য চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য চার থেকে ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের দাবি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, একজন নার্স এবং কয়েকজন সমন্বয়কারী।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত স্বাস্থ্যকর্মীরা দাবি করেছেন, ম্যারাডোনার মৃত্যু আগে থেকে অনুমান করা সম্ভব ছিল না এবং তারা নিজেদের দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রত্যেকেই আবার ম্যারাডোনার চিকিৎসায় ব্যক্তিগত দায় এড়িয়ে গেছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন