প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
কক্সবাজারে বৃষ্টির পরিমাণ কমছে, ফলে প্লাবিত এলাকার পানি কিছু পরিমাণে নামতে শুরু করেছে; একইসঙ্গে ক্ষত চিহ্নগুলোও ভেসে উঠতে শুরু করছে। গত ৯ দিনের টানা অধিক বৃষ্টির ফলে প্লাবিত এলাকার ক্ষয়-ক্ষতির প্রাথমিক বিবরণী সংগ্রহের কাজ শুরু করেছে জেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের ক্ষয়-ক্ষতির প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে, ৪ জুলাই থেকে ১২ জুলাই ৯ দিনে কক্সবাজারে ৮২৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। এর ফলে কক্সবাজার জেলার ৭১টি ইউনিয়নের মধ্যে ৫টি পৌরসভার ৭০টি ইউনিয়ন ও ৪টি পৌরসভার ৪৯ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়ে অন্তত আড়াই লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছিল।
এদিকে, পাহাড় ধস এবং পানিতে ভেসে ১৩ রোহিঙ্গাসহ ৩০ জন নিহত হয়েছে। এই ৯ দিনের সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত বসতবাড়ির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬১৩টি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৩০টি, ক্ষতিগ্রস্ত ২০৪৮ কিলোমিটার সড়ক এবং ৭৯টি সেতু ও কালভার্টের ক্ষতি হয়েছে।
জেলা প্রশাসন থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, চকরিয়ার ১০ ইউনিয়ন এবং এক পৌরসভার ৮০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছে, যেখানে ছয়জন নিহত এবং একজন নিখোঁজ হয়েছেন। এই উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্ত বসতবাড়ির সংখ্যা ৩০০টি, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৩৫০ কিলোমিটার সড়ক এবং ২০টি সেতু ও কালভার্টও।
মাতামুহুরি উপজেলার ৭ ইউনিয়নে ৮৫ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছে এবং সেখানে একজন নিহত হয়েছেন। এই উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্ত বসতবাড়ির সংখ্যা ১৯০টি এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৯০ কিলোমিটার সড়ক ও ২০টি সেতু ও কালভার্ট।
পেকুয়া উপজেলার ৭ ইউনিয়ন ও এক পৌরসভার ৯৫ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়ে দুজন মারা গেছেন। এখানে ক্ষতিগ্রস্ত বসতবাড়ির সংখ্যা ৪৫০টি, ১৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ২৩০ কিলোমিটার সড়ক এবং দুটি সেতু ও কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মহেশখালী উপজেলার আট ইউনিয়ন ও এক পৌরসভার ৫০ শতাংশ প্লাবিত হয়ে একজন নিহত হয়েছেন। এই উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্ত বসতবাড়ির সংখ্যা ২০০টি এবং ১২০০ কিলোমিটার সড়ক ও দুটি সেতু ও কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কুতুবদিয়া উপজেলার ৬ ইউনিয়ন ৬৫ শতাংশ প্লাবিত হয়ে একজন মারা গেছেন। এখানে ২৫০টি বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ১৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ৯ কিলোমিটার সড়ক এবং দুটি সেতু ও কালভার্টও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কক্সবাজার সদরের ৫ ইউনিয়ন ২৫ শতাংশ প্লাবিত হয়ে তিনজন মারা গেছেন। এখানে ক্ষতিগ্রস্ত বসতবাড়ির সংখ্যা ১৮টি, ২০ কিলোমিটার সড়ক এবং ৪টি সেতু ও কালভার্টেও ক্ষতি হয়েছে।
রামু উপজেলার ১১ ইউনিয়ন ৩৫ শতাংশ প্লাবিত হয়ে দুজন মারা গেছেন। এখানে ক্ষতিগ্রস্ত বসতবাড়ির সংখ্যা ২৫টি, ৫০ কিলোমিটার সড়ক এবং ৫টি সেতু ও কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ঈদগাঁও উপজেলার ৫ ইউনিয়ন ৫ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়ে গেছে। এখানে ৩০টি বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ৫ কিলোমিটার সড়কও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
উখিয়া উপজেলার ৫ ইউনিয়ন ২৫ শতাংশ প্লাবিত হয়েছে। এখানে ১৩ রোহিঙ্গাসহ ১৪ জন নিহত হয়েছেন। এই উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্ত বসতবাড়ির সংখ্যা ৫০টি, ৬ কিলোমিটার সড়ক এবং ১২টি সেতু ও কালভার্টও ক্ষতি হয়েছে।
টেকনাফ উপজেলার ৬ ইউনিয়ন এবং এক পৌরসভার ২৫ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এখানে ১০০টি বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ৫ কিলোমিটার সড়ক এবং ১৫টি সেতু ও কালভার্ট ক্ষতি হয়েছে।
এ বিষয়ে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানান, ৯ দিনে জেলার ৬১৮টি আশ্রয় কেন্দ্রে ১৫৮০ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। প্লাবিত এলাকার জনগণের জন্য ৭৭৯০ প্যাকেট শুকনো খাবার এবং ২৯৮ মেট্রিক টন চাল ত্রাণ হিসেবে বিতরণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ত্রাণের চাহিদা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
এ দিকে, কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে ৩৮১ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের মধ্যে বাঁকখালী ও মাতামুহুরী নদীর পানি সমতল বিপদসীমা অতিক্রম করায় বিভিন্ন এলাকায় মোট ৪৪টি স্থানে বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে চকরিয়া উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নে পুরুত্যাখালী পূর্বপাড়া এলাকায় ২৫ মিটার অংশে বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে বলে জানা গেছে।
ওদিকে, কক্সবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক বিমল কুমার প্রামাণিক জানান, ৯ দিনে কৃষি ক্ষেত্রে ৪২১২ হেক্টর ফসল নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে আউশ ধানের পরিমাণ ২৬২০ হেক্টর, আমান বীজ তলা ৪৭০ হেক্টর, শাক-সবজি ৯৯৫ এবং পান বরজ ১৬৬ হেক্টর। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সংখ্যা ৪৩২১০ জন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন