প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
কানাডা, দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু যুক্তরাষ্ট্র থেকে ক্রমাগত দূরে সরে যাচ্ছে। কানাডার নাগরিকরা মার্কিন শুল্কনীতি, বাণিজ্য বিরোধ এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিভিন্ন পদক্ষেপে চরম ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন। এর ফলস্বরূপ, যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। একইসঙ্গে, মার্কিন পণ্য বয়কটের প্রবণতা সমানতালে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কানাডার বিভিন্ন শহরে মার্কিন পণ্য বয়কটের হিড়িক লেগে গেছে। অনেক কানাডিয়ান এখন মার্কিন পণ্যের পরিবর্তে দেশীয় পণ্য কিনতে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। পাশাপাশি, কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান মার্কিন সরবরাহকারীদের পরিবর্তে কানাডীয় এবং অন্যান্য দেশের বিকল্প উৎস খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের ক্ষেত্রেও একই ধরনের প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অনেক কানাডিয়ান যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ কমিয়ে দেশের অভ্যন্তরে অথবা ইউরোপসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক গন্তব্যে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন।
রাজনৈতিক দিক থেকেও যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমানোর দাবি জোরালো হয়েছে। সাম্প্রতিক অ্যাঙ্গাস রিড ইনস্টিটিউটের জরিপে দেখা গেছে, ৭৬ শতাংশ কানাডিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা থেকে সরে আসার সরকারের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্র-কানাডার বহুদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এখন বড় ধরনের সংকটে পড়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একের পর এক হঠকারী পদক্ষেপের কারণে। ইতোমধ্যে কানাডার বিভিন্ন পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্র উচ্চহারে শুল্ক আরোপ করেছে। এর জবাবে কানাডাও পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অর্থনৈতিক নির্ভরতা কমিয়ে নতুন বাজার ও বাণিজ্যিক অংশীদার খোঁজার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।
কানাডিয়ানদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে জনমতেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটেছে। সাম্প্রতিক অ্যাঙ্গাস রিডের জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ৪৫ শতাংশ কানাডিয়ান মার্কিন জনগণের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন। বিপরীতে, ৪৮ শতাংশের মনোভাব নেতিবাচক। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব আরও বেশি। জরিপে ৭৯ শতাংশ কানাডিয়ান তার প্রতি বিরূপ মনোভাব প্রকাশ করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, কানাডা-যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান বৈরিতা শুধুমাত্র সাময়িক রাজনৈতিক বিরোধের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর প্রভাব পড়ছে বাণিজ্য, ভ্রমণ, ভোক্তাদের কেনাকাটা এবং দুই দেশের দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সম্পর্কেও। ফলে, কয়েক দশকের ঘনিষ্ঠ কানাডা-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক নতুন এক বাস্তবতার মুখোমুখি হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন