প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে আগমনের উদ্দেশ্য ফাঁসির রায় কার্যকর করার জন্য হবে বলেই মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
শুক্রবার (১০ জুলাই) রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প বা উদ্যোগ (এমএসএমই) দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে নাহিদ ইসলাম এই কথা বলেন। এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে ন্যাশনাল এসএমই অ্যাসোসিয়েশন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় নাহিদ ইসলাম উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে রায় হয়ে গিয়েছে। এখন বাংলাদেশের সরকারের উচিত যথাযথ কূটনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়ায় গণহত্যাকারীকে দেশে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকর করা।
তিনি বলেন, আজকে একটি ইন্টারভিউয়ে (বার্তা সংস্থা রয়টার্সে প্রকাশিত শেখ হাসিনার সাক্ষাৎকার) আমরা জানি যে ডিসেম্বরে কেউ একজন দেশে ফেরার পরিকল্পনা করছেন। দেশ ইতিমধ্যে ১৬ বছরের ধ্বংসযজ্ঞের শিকার হয়েছে। এই কারণে আমরা চাই শেখ হাসিনা দেশে ফিরবেন, যাতে ফাঁসির রায় কার্যকর করা যায়।
শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, শেখ হাসিনা কীভাবে আসবেন, তিনি কাদের সাথে নিয়ে আসবেন, সারেন্ডার (আত্মসমর্পণ) করবেন কি করবেন না— এসব কিছুর সিদ্ধান্ত শেখ হাসিনা কেন, বাংলাদেশ সরকারকেই ঠিক করতে হবে। বাংলাদেশ সরকারকে এই বিষয়ে দিল্লির সঙ্গে কথা বলতে হবে, এখানে অন্য কোনো পক্ষ নেই। ফলে সরকারই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে শেখ হাসিনাকে কখন আনতে হবে, কীভাবে আনতে হবে এবং বিচারের রায় কিভাবে কার্যকর করতে হবে। সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করেই তাকে আনতে হবে।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, শেখ হাসিনার সিদ্ধান্ত কেবল তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়। দিল্লি থেকে যে পরিমাণ পারমিট দেওয়া হবে, সেই অনুযায়ী কথাবার্তা হবে। তাই শেখ হাসিনা আসবেন কি আসবেন না, কিভাবে আসবেন, বিচার হবে কিনা- এসব মূলত দিল্লির সঙ্গে ঢাকার কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক বোঝাপড়ার উপর নির্ভরশীল। শেখ হাসিনা বা আওয়ামী লীগ এখন কোনো রাজনৈতিক দল নয়।
জুলাই বিপ্লবে অংশগ্রহণকারীরা যেকোনো পরিস্থিতির মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অংশগ্রহণকারীরা রাজনৈতিকভাবে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং অর্থনীতিকে রক্ষা করার জন্য আমরা যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত আছি।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, শেখ হাসিনা বা আওয়ামী লীগকে কেন্দ্র করে যদি রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার কোনো চেষ্টা হয়, সরকার যদি সেটাকে সমর্থন দেয়, তাহলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হবে সরকারকেই। বাংলাদেশের আপামর জনগণ, জুলাই বিপ্লবে অংশগ্রহণকারী সকল পক্ষ, ত্রিশ হাজার আহত এবং ১ হাজার ৪০০ শহীদ পরিবারের সদস্য- আমরা সকলেই প্রস্তুত রয়েছি।
গণহত্যার দায়ে আওয়ামী লীগের বিচার প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম মন্তব্য করেন, বাংলাদেশে এখন আওয়ামী লীগকে দলগতভাবে বিচারের আওতায় আনার বিষয়ে সরকারও চিন্তাভাবনা করছে। আমরা মনে করি, এটাই সঠিক পথ। শেখ হাসিনার রায় ইতিমধ্যে হয়ে গিয়েছে। এখন সেটি কার্যকর করতে হবে। শেখ হাসিনা যদি দেশে ফেরেন, তবে কেবলমাত্র ফাঁসির রায় কার্যকর করার জন্যই ফিরে আসবেন। এর জন্য আমরাও চাই যে, ফাঁসির রায় কার্যকর হোক।
অনুষ্ঠানে সারা দেশ থেকে আগত বিভিন্ন উদ্যোক্তারা অংশ নেন। এতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাগণ এবং উদ্যোক্তারা বক্তব্য দেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন