প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণ এবং উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের আবেদন আজ থেকে শুরু হচ্ছে।
রোববার (০১ নভেম্বর) থেকে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়ে আগামী ৭ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, নির্ধারিত ওয়েবসাইটে ([https://rescrutiny.eduboardresults.gov.bd](https://rescrutiny.eduboardresults.gov.bd)) প্রবেশ করে শিক্ষার্থীদের রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর পূরণ করে বোর্ডের ড্রপ ডাউন থেকে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড নির্বাচন করতে হবে।
এরপর, মোবাইল নম্বর দিয়ে পরবর্তী ধাপে গিয়ে কাঙ্ক্ষিত বিষয় বা পত্রগুলো নির্বাচন করে ফি প্রদান করতে হবে।
প্রতিটি পত্রের জন্য ১৫০ টাকা হারে ফি প্রযোজ্য এবং দ্বিপত্রবিশিষ্ট বিষয়ের ক্ষেত্রে উভয় পত্রের জন্য আবেদন করতে হবে। এই ফি বিকাশ, নগদ, ডিবিএল রকেট, উপায় এবং সোনালী সেবার মাধ্যমে পরিশোধ করা যাবে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, অনলাইন ছাড়া ম্যানুয়ালি কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে না।
এদিকে, এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীরা এ বছরই পাস করার সুযোগ পাচ্ছেন। সরকার তাদের জন্য বিশেষ পুনঃপরীক্ষার আয়োজন করতে যাচ্ছে। ফলে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পরবর্তী বছরের পরীক্ষা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে না।
কারা পাবে পুনঃপরীক্ষার সুযোগ?
এ বছর এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীরা এই বিশেষ সুযোগ পাবেন। তাদের শুধুমাত্র যেসব বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে, সেসব বিষয়েই আবার পরীক্ষা দিতে হবে। অর্থাৎ, সব বিষয়ে নতুন করে পরীক্ষা দেওয়ার প্রয়োজন হবে না।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আখতারুজ্জামান জানিয়েছেন, পুনঃপরীক্ষার তারিখ, ফরম পূরণ ও ফি-সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য ৩ নভেম্বরের মধ্যে জানানো হবে।
এ বছর এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে ৪ লাখ ২২ হাজার ৯০৫ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে এক বিষয়ে ফেল করেছেন ২ লাখ ৯৮ হাজার ৪০ জন এবং দুই বিষয়ে ফেল করেছেন ১ লাখ ২৪ হাজার ৮৬৫ জন।
কবে হবে পুনঃপরীক্ষা?
এই সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষার সম্ভাব্য তারিখ আগামী ২ ডিসেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির প্রকাশিত সময়সূচিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তির সময়সূচি অনুযায়ী, সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়নের কাজ ১ নভেম্বর থেকে ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে। এছাড়া পরীক্ষার ফরম পূরণ শুরু হবে ৩ নভেম্বর, চলবে ৮ নভেম্বর পর্যন্ত। সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষার ফল প্রকাশের সম্ভাব্য তারিখ ৩১ ডিসেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিদ্যমান বিধিমালায় এ ধরনের পরীক্ষা গ্রহণের সুযোগ নেই। ফলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের লিখিত নির্দেশনা পেলেই এই পরীক্ষা নেয়া হবে।
এর আগে শিক্ষামন্ত্রী ডা. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছিলেন, আগামী এক মাসের মধ্যে বিশেষ এই পরীক্ষা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির জন্য প্রয়োজনীয় সময় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি কার্যক্রমের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষ এমন সময়সূচি নির্ধারণ করতে চায়, যাতে শিক্ষার্থীরা পুনঃপরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হলে উচ্চশিক্ষায় ভর্তির সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হন।
পরীক্ষার নির্দিষ্ট তারিখ, ফরম পূরণের সময় ও ফি সম্পর্কে শিক্ষা বোর্ডের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর বিস্তারিত জানা যাবে।
যারা পুনঃপরীক্ষায়ও পাস করবে না, তাদের কী হবে?
শুধু পুনঃপরীক্ষার সুযোগ দিয়েই বিষয়টি শেষ করতে চায় না সরকার। শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, বিশেষ পরীক্ষাতেও যারা উত্তীর্ণ হতে পারবেন না কিংবা যারা এ পরীক্ষায় অংশ নেবেন না, তাদেরও শিক্ষার বাইরে রাখা হবে না।
তাদের কারিগরি ও কর্মমুখী শিক্ষার আওতায় এনে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে বিশেষ প্রকল্প ও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
ফল পুনর্নিরীক্ষণের সুযোগও রয়েছে-
এদিকে, যারা মনে করছেন তাদের উত্তরপত্র মূল্যায়নে ভুল হয়েছে কিংবা প্রত্যাশার তুলনায় কম নম্বর পেয়েছেন, তারাও ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করতে পারবেন। পুনর্নিরীক্ষণের ফলাফল ইতিবাচক হলে পরবর্তী বছরে পরীক্ষা দেয়া নাও লাগতে পারে।
শিক্ষা বোর্ডের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন ১ নভেম্বর থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত করা যাবে। প্রতিটি পত্রের জন্য আবেদন ফি ১৫০ টাকা।
আগ্রহী শিক্ষার্থীদের https://rescrutiny.eduboardresults.gov.bd ওয়েবসাইটে গিয়ে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে আবেদন করতে হবে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত হয়েছে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল। এবার ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। অর্থাৎ, প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থীই অকৃতকার্য হয়েছেন। এবার জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ শিক্ষার্থী।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন