প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ঢাকার ধামরাইয়ে আকিজ ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের কারখানায় পণ্য লোড-আনলোড (বোঝাই ও খালাস) কার্যক্রমে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে প্রায় ২০ কোটি টাকার ক্ষতির অভিযোগ উঠেছে। কারখানা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, পণ্যবাহী গাড়ির চালকদের কাছ থেকে অবৈধভাবে চাঁদা ও বকশিশ আদায়ে ব্যর্থ হওয়ায় শ্রমিকদের একটি অংশকে উসকানি দিয়ে এই অচলাবস্থা তৈরি করা হয়েছে।
এ ঘটনার পেছনে স্থানীয় এক ইউপি সদস্য, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক এবং আওয়ামী লীগ ও বিএনপির স্থানীয় দুই নেতার সরাসরি ইন্ধন রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে এই অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হুদা খান। এর আগে সোমবার (১৯ অক্টোবর) কারখানা কর্তৃপক্ষ ধামরাই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে।
কারখানা কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়, পণ্য লোড-আনলোডের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স এম. এম. এন্টারপ্রাইজ’-এর কিছু শ্রমিকের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে পণ্যবাহী ট্রাকের চালকদের কাছ থেকে জোরপূর্বক বকশিশ ও চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে চালকদের মারধর ও লাঞ্ছিত করার ঘটনাও ঘটে। সম্প্রতি, কারখানা কর্তৃপক্ষ অননুমোদিতভাবে টাকা আদায়ের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করে।
এর ফলস্বরূপ সংশ্লিষ্ট শ্রমিকেরা প্রথমে কাজ বন্ধ করে দেন। পরে কাজে ফিরে আসলেও এক-তৃতীয়াংশ লোকবল নিয়ে ধীরগতিতে কাজ শুরু করেন। এতে কারখানার স্বাভাবিক পণ্য সরবরাহ ব্যাহত হয় এবং প্রায় ২০ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয় বলে দাবি কর্তৃপক্ষের। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কর্তৃপক্ষ নতুন ভেন্ডর (ঠিকাদার) নিয়োগ দিলে স্থানীয় প্রভাবশালীরা তাদের কাজ বন্ধ করতে হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ কারণে সোমবার বিকেলে ওই ভেন্ডরের শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ করে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে নেমে আসেন। এ সময় তারা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তাদের সড়ক থেকে সরিয়ে নিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
এদিকে, কাজ চালু রাখার জন্য নতুন ভেন্ডরের কয়েকজন শ্রমিক কাজ করতে গেলে সোমবার দুপুরে তাদের কয়েকজনকে মারধর করা হয়। নতুন ভেন্ডর কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে ধামরাই থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। ওই অভিযোগের সূত্রে জানা যায়, আব্দুল কাদের নামের এক শ্রমিক সর্দারকে মারধর করে রক্তাক্ত জখম করা হয়েছে।
কারখানা কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, এ ঘটনার পেছনে ইন্ধন দিচ্ছেন মেসার্স এম. এম. এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. মোজাম্মেল হক ও স্থানীয় কুশুন্দিয়া এলাকার ইউপি সদস্য মো. ঈমান আলী। এই ব্যক্তিরা নতুন ভেন্ডরকে সরিয়ে দিয়ে পুনরায় নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার জন্য কারখানা কর্তৃপক্ষের ওপর নানামুখী চাপ সৃষ্টি করছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এছাড়া, স্থানীয় যুবলীগ নেতা মো. মামুনের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি নতুন ভেন্ডরের কর্মীদের কারখানা থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন এবং নিজের লোকজন দিয়ে কাজ চালু রাখার জন্য কারখানা কর্তৃপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন।
কারখানা কর্তৃপক্ষ যোগাযোগ করলে শ্রমিক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নতুন ভেন্ডরকে বাদ দেওয়ার শর্তেই কেবল তাদের শ্রমিকেরা পুরোদমে কাজ করতে রাজি আছেন।
সার্বিক পরিস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে আকিজ ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের কারখানা প্রশাসনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, "যেকোনো ধরনের চাঁদাবাজি, শ্রমিক বা চালকদের ওপর শারীরিক নিগ্রহের মতো অনভিপ্রেত ঘটনা প্রতিষ্ঠানের নীতিমালার পরিপন্থী। একটি সুনির্দিষ্ট চক্রের অযৌক্তিক কর্মবিরতি ও ধীরগতির কারণে কারখানার উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা সামগ্রিক ব্যবসায়িক কার্যক্রমকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। আমরা কারখানার অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষা এবং কর্মরত প্রত্যেকের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছি। একই সঙ্গে উৎপাদন সচল রাখতে আইনানুগ পন্থায় বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।"
এ বিষয়ে ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হুদা খান বলেন, "আকিজ ফুড অ্যান্ড বেভারেজ কর্তৃপক্ষের একটি লিখিত আবেদন পাওয়া গেছে। একটি স্বনামধন্য শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সার্বিক নিরাপত্তা ও ব্যবসায়িক পরিবেশ অক্ষুণ্ণ রাখতে পুলিশ তৎপর রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন