প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
পটুয়াখালী, ২২ অক্টোবর, ২০২৬ : আগামীকাল কুয়াকাটায় শুরু হতে যাচ্ছে দুই দিনব্যাপী ‘পর্যটন কার্নিভাল ২০২৬’, যা দীর্ঘ নয় বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ উপলক্ষে বিচ ফুটবল, ক্রিকেট, ম্যারাথন, ঘুড়ি ও পিঠা উৎসব, ফ্যাশন শো, সংগীতানুষ্ঠান এবং চরাঞ্চল ভ্রমণের আয়োজন করা হচ্ছে।
আয়োজকরা কুয়াকাটা সৈকতে বিপুলসংখ্যক পর্যটকের সমাগমের প্রত্যাশা করছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য সচিব মো. আরিফুজ্জামান জানান, টানা ছুটি ও কার্নিভাল মিলিয়ে এবারের আয়োজনে পাঁচ থেকে ছয় লাখ পর্যটকের আগমনের সম্ভাবনা রয়েছে। এই সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখে সৈকতজুড়ে নানা প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, এবারের আয়োজনে গতানুগতিকতার বাইরে বেশ কিছু নতুন আকর্ষণ যুক্ত করা হয়েছে। বিনোদন, খেলাধুলা, স্থানীয় সংস্কৃতি ও পর্যটন অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে দর্শনার্থীদের জন্য উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে।
কার্নিভালে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্র্যান্ডের অংশগ্রহণের পাশাপাশি নান্দনিক স্টল ও ফটো বুথ থাকবে। বিউটি পার্টনার হিসেবে যুক্ত হয়েছে রিমার্ক-হারল্যান। প্রতিষ্ঠানটি তাদের বিভিন্ন বিউটি ও পার্সোনাল কেয়ার ব্র্যান্ডের পণ্য প্রদর্শনের পাশাপাশি দর্শনার্থীদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করবে। এতে উৎসবের বিনোদন ও লাইফস্টাইলভিত্তিক আয়োজন আরও বৈচিত্র্যময় হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কুয়াকাটার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও স্থানীয় ঐতিহ্যকে পর্যটকদের সামনে তুলে ধরার লক্ষ্য এবারের কার্নিভালের অন্যতম উদ্দেশ্য। একই স্থান থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার অভিজ্ঞতার জন্য পরিচিত এ সমুদ্রসৈকতের পাশাপাশি লেম্বুর বন, গঙ্গামতি, লাল কাঁকড়ার চর, রাখাইন পল্লি ও বৌদ্ধ মন্দির পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠবে। দর্শনার্থীরা স্থানীয় খাবার, সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগও পাবেন।
কার্নিভালে বিচ ফুটবল ও বিচ ক্রিকেটের মতো ক্রীড়া আয়োজনের পাশাপাশি বিচ ম্যারাথন, ঘুড়ি উৎসব এবং পিঠা উৎসবও অনুষ্ঠিত হবে। ফ্যাশন শো, সংগীতানুষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে উৎসবকে আরও প্রাণবন্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া চরাঞ্চল ভ্রমণের আয়োজন পর্যটকদের সমুদ্রসৈকতের বাইরের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও স্থানীয় জীবনধারা সম্পর্কে জানার সুযোগ করে দেবে।
স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, দীর্ঘ বিরতির পর আয়োজিত এ কার্নিভাল কুয়াকাটার পর্যটন সম্ভাবনাকে নতুন করে তুলে ধরবে। পর্যটকের সংখ্যা বাড়লে হোটেল, মোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহন ও স্থানীয় পণ্য বিক্রিসহ সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, স্থানীয় ঐতিহ্য, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের সমন্বয়ে কুয়াকাটা পর্যটন কার্নিভাল ২০২৬ পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় অভিজ্ঞতা তৈরি করবে এবং দেশের পর্যটন খাতের বিকাশে ভূমিকা রাখবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন