প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে। পানিতে তলিয়ে গেছে মেরিন একাডেমি সড়ক, ফলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে, উপজেলার ১১টি ইউনিয়নেই বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল থেকে মেরিন একাডেমি সড়কের অনেক অংশ কোমরসমান পানিতে তলিয়ে যায়। এর ফলে কর্ণফুলী ড্রাইডক, মেরিন একাডেমি, কেইপিজেড ও বন্দর কমিউনিটি সেন্টারের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। জরুরি প্রয়োজনে স্থানীয়দেরকে পানির মধ্য দিয়েই হেঁটে চলাচল করতে দেখা গেছে।
টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে বৈরাগ ইউনিয়নের উত্তর গুয়াপঞ্চক, বৈরাগ আমানউল্লাহ পাড়া, চাতরী পাঁচ সিকদার বাড়ি, মোহাম্মদপুর এবং কেইপিজেড-সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়ে গেছে। এছাড়া সিইউএফএল সড়ক, বটতলী-শাহ মোহছেন আউলিয়া সড়ক, বটতলী-শোলকাটা সড়ক, আনোয়ারা সদর ও চাতরীর ইছামতি এলাকা পানির নিচে চলে যায়। রায়পুর ইউনিয়নের পূর্বগহিরা এলাকায় ঝড়ো বাতাসের কারণে একটি বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় পরীক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ ও সাধারণ বাসিন্দারা চরম ভোগান্তি ও সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন। অনেক এলাকায় রান্নাবান্নাও বন্ধ হয়ে গেছে।
সড়ক ও জনপদ বিভাগ সূত্র জানায়, চাতরী চৌমুহনী থেকে সিইউএফএল-মেরিন একাডেমি-কর্ণফুলী ড্রাইডক পর্যন্ত ৭ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণকাজ চলছে। কেইপিজেডের জেডি গেট এলাকায় একটি কালভার্ট নির্মাণের কারণে বিকল্প সড়ক ব্যবহার করা হচ্ছিল। তবে সোমবার বিকেলে পাহাড়ি ঢলে সেই বিকল্প সড়কও তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
অটোরিকশাচালক মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন বলেন, বৃষ্টির কারণে গাড়ি বের করতে পারেননি। ফলে আয় বন্ধ হয়ে পরিবার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
গুয়াপঞ্চক এলাকার বাসিন্দা মো. দিদারুল আলম বলেছেন, সকাল থেকে পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন এবং পানি নিষ্কাশনের পথ না থাকায় ঘরেও পানি ঢুকে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মাওলানা কাজী জাকের হোসাইন আনসারী অভিযোগ করেছেন, পাহাড়ি ঢল ও অপর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার কারণে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে গেছে। এতে ঘরবাড়ি, কবরস্থান ও সড়কের ক্ষতি হয়েছে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তাহের অ্যান্ড ব্রাদার্সের প্রকৌশলী মোহাম্মদ মুন্না জানিয়েছেন, বিকল্প সড়কটি সচল করতে দ্রুত কাজ অর্থাৎ চলছে। আশা করা হচ্ছে, বুধবারের মধ্যে সড়কটি আবার যান চলাচলের উপযোগী করা যাবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন