প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
নরসিংদীর দুটি কেন্দ্রে এইচএসসি পরীক্ষার সময় ভুল প্রশ্নপত্রে এমসিকিউ পরীক্ষা গ্রহণের অ-ভি-যোগ সামনে এসেছে।
বৃহস্পতিবার সদর উপজেলার নরসিংদী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ২০১ নম্বর রুমে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে কিছু শিক্ষার্থীকে নৈর্ব্যক্তিক পরীক্ষায় ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়। আর মনোহরদী উপজেলার খিদিরপুর ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রের দুটি কক্ষে প্রায় শতাধিক পরীক্ষার্থী ভুল প্রশ্নপত্র পেয়েছেন।
পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের পরীক্ষার্থী সূত্রে জানা যায়, ‘পরীক্ষা শুরু হওয়ার ১০/১৫ মিনিট পর আমরা লক্ষ্য করি আমাদের প্রশ্নপত্রটি গত বছরের। তারপর দ্রুত বিষয়টি শিক্ষকদের জানালে তাঁরা আমাদের পুরনো প্রশ্নপত্রটি নিয়ে নতুন বছরের প্রশ্নপত্র দেয়, কিন্তু নির্ধারিত সময়ের পর আমাদের অতিরিক্ত কোনো সময় দেননি।’
এ বিষয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রের সচিব নরসিংদী সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর নাছিমা আক্তার বলেন, কিছু শিক্ষার্থীকে ভুলবশত পুরনো সিলেবাসের প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হয়েছে। পরে কিছু সময় পর জানতে পেরে নতুন বছরের সিলেবাস বিতরণ করা হয়। এটি নরসিংদীবাসীর মান-সম্মানের প্রশ্ন, তাই আমরা বিব্রত।
জরুরিভাবে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কেন্দ্রের প্রশ্ন আনা-নেয়া থেকে শুরু করে পুরো দায়িত্বে থাকা নরসিংদী সরকারি মহিলা কলেজের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক অলক কুমার পাল এবং হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সুব্রত কুমার সাহাকে সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ঘটনার বিস্তারিত তদন্তের জন্য প্রতিনিধি পাঠানো হয়েছে। তাঁরা তদন্ত শেষে বিস্তারিত লিখিতভাবে জানালে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নরসিংদী সরকারি মহিলা কলেজের এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারি কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম জানান, ‘বিষয়টি আমরা অবগত, এবং জেলা প্রশাসক মহোদয় বিষয়টি তদন্তের জন্য অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মু: রাসেদুজ্জামানকে নির্দেশ দিয়েছেন।’
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা জাহান সরকার বলেন, ‘ঘটনাটি জানার পর আমরা খতিয়ে দেখছি এবং আমি নিজেও ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর চেষ্টা করছি। পরিস্থিতি সত্যি হলে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ এস এম আব্দুল খালেক জানিয়েছেন, ‘এই ঘটনার বিষয়ে সরাসরি কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ সম্ভব নয়। আমরা কেন্দ্র ও জেলা প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ রাখছি। কেন্দ্রের সিসি ক্যামেরা স্থাপন এবং কেন্দ্র সরানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হবে।’
মনোহরদী উপজেলার খিদিরপুর ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রের পরীক্ষার্থীরা জানান, ‘আমাদের নতুন সিলেবাসের এমসিকিউ প্রশ্নপত্রের পরিবর্তে বাংলা প্রথম পত্রের ‘খ’ সেট, ১২১ কোডের ভিন্ন প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হয়। পরীক্ষা শেষে বাড়িতে গিয়ে উত্তর মিলানোর সময় বিষয়টি আমরা বুঝতে পারি। ওই কেন্দ্রে মনোহরদী সরকারি কলেজের ৬১২ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়েছিল, তাঁদের মধ্যে দুটি কক্ষে প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থীকে নির্ধারিত প্রশ্নপত্রের পরিবর্তে ভিন্ন প্রশ্ন বিতরণ করা হয়।’
পরীক্ষা শেষে বাড়িতে গিয়ে শিক্ষার্থীরা বিষয়টি বুঝে উঠতে পারেন। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। অনেক শিক্ষার্থী নিজেদের ফলাফল নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
মনোহরদী সরকারি কলেজের পরীক্ষার্থী সাকিবা বলেন, ‘পরীক্ষার হলে আমরা বুঝতেই পারিনি যে ভুল প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়েছে। বাড়িতে এসে উত্তর মিলিয়ে দেখি আমাদের ভিন্ন প্রশ্নে পরীক্ষা নিয়েছে, এটি নিয়ে আমরা চিন্তায় আছি।’
খিদিরপুর ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রের কেন্দ্র সচিব ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. নাজিম উদ্দীনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে অবস্থান করছেন বলে পরে আলোচনা করবেন বলে ফোন সংক্ষিপ্ত করেন।
মনোহরদী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আব্দুল মান্নান জানান, শিক্ষার্থীদের অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি সম্পর্কে জানলাম। তাঁর মতে, পরীক্ষার দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের অবহেলার কারণেই এটি ঘটেছে। বিষয়টি সমাধানে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।
কেন্দ্রের দায়িত্ব পালনকারী শিক্ষকরা হলেন খিদিরপুর ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক আরেফা সুলতানা (হল সুপার), প্রভাষক সামছুল আলম (সদস্য), প্রভাষক মাহমুদুর রহমান (সদস্য), এবং প্রভাষক মো. আক্রাম হোসেন (সদস্য)।
মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এম. এ. মুহাইমিন আল জিহান মন্তব্য করেন, প্রশ্নপত্র কেন্দ্রে পৌঁছানোর আগে যেসব ধাপগুলি রয়েছে, সেগুলি বিবেচনায় নিয়ে দেখা যায়, এক পরীক্ষার প্রশ্ন অন্য পরীক্ষায় চলে আসা প্রায় অসম্ভব। এ ক্ষেত্রে দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের ভুলের কারণে এ ঘটনা ঘটতে পারে।
তিনি আরও জানান, ঘটনার পর দায়িত্বে থাকা চারজন শিক্ষককে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কেন্দ্র সচিব ও খিদিরপুর ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. নাজিম উদ্দীনের বিরুদ্ধে যথাযথ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি কোনো পরীক্ষার্থী যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সেই বিষয়ে শিক্ষা বোর্ডকে ইতোমধ্যে অবহিত করা হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন