প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমে আসা এবং মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা প্রশমিত হওয়ার ফলে স্বর্ণের দামে প্রভাব পড়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্বর্ণের দাম আবারও বেড়েছে। মূলত মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ কমায় স্বর্ণের দামের এই উর্ধ্বগতি ঘটেছে।
রয়টার্স জানাচ্ছে, বিনিয়োগকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) সুদের হারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন। ফলে সোমবার (২৬ অক্টোবর) আগের সেশনে তিন মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যাওয়ার পর স্বর্ণের দাম পুনরায় বৃদ্ধি পেয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার বাংলাদেশ সময় রাত ১২টার দিকে স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ০.৬ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ২০ দশমিক ৬০ ডলারে। এর আগে শুক্রবার স্বর্ণের দাম ৩ হাজার ৯৭৫ ডলারে নেমে গিয়েছিল, যা গত ২০ জুলাইয়ের পর সর্বনিম্ন।
স্টোনএক্সের জ্যেষ্ঠ বাজার কৌশলবিদ বব হ্যাবারকর্ন মন্তব্য করেছেন, অপরিশোধিত তেলের দাম কিছুটা কমে আসায় স্বর্ণের বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে। তিনি আরও জানিয়েছেন, কম দামে স্বর্ণ কেনার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ফেডের সিদ্ধান্ত ঘোষণার আগপর্যন্ত স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্স ৪ হাজার ডলারের আশপাশে থাকতে পারে বলে তার ধারণা।
গত সপ্তাহে বেড়ে ছয় মাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর সোমবার তেলের দাম কমেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা কমার সম্ভাবনা এই ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে। তেলের দাম কমায় মূল্যস্ফীতির চাপ নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা প্রশমিত হলেও সরবরাহে নতুন করে বিঘ্ন ঘটলে পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
বুধবার ফেডের সুদের হারের সিদ্ধান্ত ঘোষণার কথা রয়েছে। সেপ্টেম্বরে সুদের হার বাড়ানোর পর এবার তা অপরিবর্তিত রাখার সম্ভাবনা বেশি। তবে সিএমইর ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বরে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা ৮০ শতাংশ।
সাধারণত সুদের হার বাড়লে স্বর্ণের মতো মুনাফাবিহীন সম্পদ ধরে রাখার সুযোগব্যয় বৃদ্ধি পায়। ফলে সুদের হারসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত স্বর্ণের দামের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। ফেডের কর্মকর্তারা চলতি সপ্তাহে সুদের হার না বাড়ানোর ইঙ্গিত দিলেও মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগের কারণে এই বিরতি দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে বলে বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন।
এদিকে বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের ব্যক্তিগত ভোগব্যয় মূল্যসূচকের (পিসিই) তথ্য প্রকাশিত হওয়ার কথা। মূল্যস্ফীতি পরিমাপের ক্ষেত্রে ফেডের পছন্দের এই সূচক থেকে সুদের হারের ভবিষ্যৎ গতিপথ সম্পর্কে নতুন ধারণা পেতে চাইছেন বিনিয়োগকারীরা।
৩ নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনও বাজার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নজরে রয়েছে। নির্বাচনের ফলাফল দেশটির রাজস্বনীতি, শুল্ক, ভূরাজনৈতিক ব্যয় ও নীতিগত অনিশ্চয়তাকে কীভাবে প্রভাবিত করতে পারে, তা মূল্যায়ন করছেন তারা। এসব বিষয় মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের মুনাফার হার, ডলারের দর এবং স্বর্ণের বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে বলে জানিয়েছেন ওসিবিসির বিশ্লেষকেরা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন