প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া আশ্বাসের পর দেশের অধিকাংশ শিল্পাঞ্চলে গ্যাস সরবরাহের পরিস্থিতিতে উল্লেখযোগ্য উন্নতি লক্ষ্য করা গেছে। পাশাপাশি, বাসাবাড়িতে রান্নার গ্যাসের চাপ এবং সরবরাহও বৃদ্ধি পেয়েছে। সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে গ্যাস সরবরাহও স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে।
গ্যাস সরবরাহের স্বাভাবিকতা বজায় রাখতে প্রধানমন্ত্রী নিজেই সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছেন। তিনি বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলের গ্যাস সরবরাহের তথ্য নিয়মিত সংগ্রহ করছেন এবং জাতীয় সঞ্চালন পাইপলাইনের পরিস্থিতিও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করছেন তারেক রহমান। তার নির্দেশনার প্রেক্ষিতে দেশে জ্বালানি পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসছে।
গাজীপুর, মাওনা, ভালুকা, ময়মনসিংহ, নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদীসহ বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের সরবরাহ আগের তুলনায় বেড়ে গেছে। কিছু জায়গায় ১২ থেকে ১৫ পিএসআই পর্যন্ত চাপ পাওয়া যাচ্ছে। এর ফলে শিল্পকারখানায় গ্যাস সরবরাহ ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসছে।
বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু জানান, সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্নের কারণে সৃষ্ট গ্যাস সংকট কাটিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে শুরু করেছে। মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহের পরিস্থিতিতে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে এবং সার্বিক অবস্থা ক্রমান্বয়ে ভালো হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, গাজীপুর, মাওনা, ভালুকা ও ময়মনসিংহ এলাকায় গ্যাস সরবরাহের যে সমস্যা ছিল, তা অনেকটাই সমাধান হয়েছে। বর্তমানে এসব এলাকায় গ্যাস সরবরাহের পরিস্থিতি বেশ ভালো।
তবে কিছু এলাকায় গ্যাসের স্বল্পতা এবং চাপের ওঠানামা রয়েছে উল্লেখ করে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, মানিকগঞ্জ, ধামরাই ও সাভারের কিছু এলাকায় আগে থেকেই গ্যাস সরবরাহে সমস্যা ছিল। এসব এলাকায় পরিস্থিতি উন্নয়নের জন্য সরবরাহ ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম জানান, প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসের পর নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী ও গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের চাপ বেড়েছে। কিছু এলাকায় ১২ থেকে ১৫ পিএসআই পর্যন্ত চাপ পাওয়া যাচ্ছে, যা সাম্প্রতিক সময়ে সেখানে দেখা যায়নি।
তিনি বলেন, আশুলিয়া, কাসিমপুর, কালিয়াকৈর ও ধামরাইয়ের কিছু এলাকায় এখনও গ্যাসের চাপ কিছুটা কম রয়েছে। তবে সার্বিকভাবে সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি ঘটেছে।
অন্যদিকে বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ জানান, শিল্পকারখানায় গ্যাস সরবরাহের পরিস্থিতি উন্নতি লাভ করেছে। প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসের পর গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইনে সরবরাহ আগের তুলনায় বেড়েছে।
তিনি বলেন, আগের তুলনায় পরিস্থিতি ভালো। কোথাও কোথাও টানা দুই ঘণ্টা স্বাভাবিক চাপ থাকার পর আবার চাপ কিছুটা কমে যাচ্ছে। গাজীপুর শিল্পাঞ্চলের কয়েকটি কারখানাতেও সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি ঘটেছে, তবে মাঝে মাঝে চাপের কিছুটা ওঠানামা হচ্ছে।
পারভেজ বলেন, কারখানাগুলোর উৎপাদন কার্যক্রম পুরোপুরি স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত এবং পর্যাপ্ত গ্যাসের চাপ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
পেট্রোবাংলা সূত্র জানায়, জাতীয় গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইনে মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় ২৬১ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ ছিল। তবে জাতীয় গ্রিডে ক্রমান্বয়ে গ্যাসের সরবরাহ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
শিল্প উদ্যোক্তা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাম্প্রতিক সরবরাহ সংকটের পর দেশের অধিকাংশ শিল্পাঞ্চলে গ্যাসের চাপ এবং সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পথে রয়েছে। সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি স্থিতিশীল হলে শিল্পকারখানার উৎপাদন কার্যক্রমও ফের স্বাভাবিক গতিতে ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে। সূত্র: বাসস
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন