প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
বান্দরবানের থানচি উপজেলার দুর্গম রেমাক্রী ও বড় মদক এলাকা প্রাকৃতিক পাথরের সৌন্দর্যের জন্য পর্যটকদের কাছে পরিচিত। দীর্ঘ সময় ধরে পাথরের রাজ্য হিসেবে পরিচিত এই অঞ্চলের ঝিরি থেকে অবাধে পাথর তোলার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের মতে, এইভাবে পাথর তোলার ফলে একদিকে পাহাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে ঝিরির স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে, যা পরিবেশগত বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি করছে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন যে, গত দুই বছর ধরে প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সহযোগিতায় পাথর ব্যবসায়ী ও ঠিকাদারদের একটি চক্র রেমাক্রী ও বড় মদক এলাকার প্রাকৃতিক পাথর তুলে তা সরকারি-বেসরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের নামে সড়ক ও অবকাঠামো নির্মাণের কাজে নিয়োজিত ঠিকাদারদের কাছে বিক্রি করছে।
তাদের অভিযোগ অনুযায়ী, ঝিরি থেকে পাথর তুলতে লামা এলাকার জকির নামের এক ব্যক্তি শ্রমিক নিয়োগ করেছেন। পাথর তোলার পর সেগুলো ভেঙে খোয়া তৈরি করা হচ্ছে এবং পরে বিভিন্ন নির্মাণকাজে সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে জাকিরের বিস্তারিত পরিচয় জানা যায়নি।
গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বড় মদক এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পাথর তোলার ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করে তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান চালালে বড় মদক ঝিরি থেকে পাথর তোলার সত্যতা উঠে আসে।
বড় মদক পাড়ার বাসিন্দা অংতুয়াই সিং মারমা, অনুমং মারমা, চিংহলা মং মারমা সহ স্থানীয় কয়েকজনের ভাষ্য, গত এক মাস ধরে লামা এলাকার পাথর ব্যবসায়ী জকির প্রায় ২০-৩০ জন শ্রমিক দিয়ে ঝিরি থেকে পাথর তুলছেন। তাদের মধ্যে অধিকাংশই রোহিঙ্গা। তাদের দাবি, ইতোমধ্যে প্রায় পাঁচ থেকে সাত হাজার পিচ পাথর তোলা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা আরো জানান, ঝিরি থেকে পাথর তুলে তা ক্রাশিং মেশিনের সাহায্যে ভাঙা হয়। পরে ওই ভাঙা পাথর বিভিন্ন সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প ও সড়ক নির্মাণের কাজে নিয়োজিত ঠিকাদারদের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে।
তারা বলছেন, অবৈধ পাথর তোলা বন্ধে গত কয়েক সপ্তাহে একাধিকবার উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে, কিন্তু শনিবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা চলামং থোয়াই নু প্রু মারমার ভাষ্য, পাথর তোলায় বাধা দিতে গেলে ব্যবসায়ী জকির স্থানীয়দের হুমকি-ধমকি দেন। তার দাবি, উপজেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানিয়েই তিনি এ কাজ করছেন।
তবে পাথর তোলার বৈধ অনুমতিপত্র কিংবা সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র দেখতে চাইলে জাকির তা দেখাতে পারেননি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে। প্রশ্ন উঠেছে, দুর্গম এলাকার প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষার দায়িত্ব যাদের, তাদের সহযোগিতায় কীভাবে দিনের পর দিন পাথর তোলা হচ্ছে।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত জকিরের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি তা ধরেননি।
রেমাক্রী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুই সৈ থুই মারমা বলেছেন, পাথর তোলার বিষয়টি তার জানা নেই। তবে নদী বা ঝিরি থেকে পাথর না তুলতে স্থানীয়দের বলা হয়েছিল।
থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল ফয়সালকে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি তা ধরেননি। পরে ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হলেও তাতে সাড়া দেননি তিনি।
বান্দরবানের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এস এম হাসান বলেছেন, ‘পাথর তোলার বিষয়ে আগে কোনো অভিযোগ পাইনি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন