প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ঢাকা, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬ : কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনকেন্দ্রে রূপান্তরিত করার লক্ষ্যে পরিকল্পিত উন্নয়ন, আধুনিক পর্যটন সুবিধা নিশ্চিত করা এবং পরিবেশ সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
মন্ত্রী বলেন, 'কুয়াকাটা বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় পর্যটনকেন্দ্রগুলোর একটি। যথাযথ পরিকল্পনা ও উন্নয়ন করা হলে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে এটি আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে।'
আজ একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে গতকাল (শুক্রবার) পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় হোটেল খান প্যালেসে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী এসব মন্তব্য করেন।
কুয়াকাটার অনন্য পর্যটন সম্ভাবনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, একই সমুদ্রসৈকত থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার সুযোগ, বিস্তীর্ণ বালুকাবেলা এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এই পর্যটনকেন্দ্রকে স্বতন্ত্র আকর্ষণ দিয়েছে।
এসময়, কুয়াকাটাকে আন্তর্জাতিক মানের সমুদ্রসৈকত হিসেবে গড়ে তুলতে পর্যটকদের নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং মানসম্মত আবাসন সুবিধাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর জোর দেন তিনি।
মন্ত্রী সমুদ্রসৈকত এলাকায় আধুনিক গণশৌচাগার, নিরাপদ খাবার পানির ব্যবস্থা, বসার স্থান, পর্যটক তথ্যকেন্দ্র, গাড়ি পার্কিংয়ের সুবিধা এবং জরুরি চিকিৎসাসেবা চালুর আহ্বান জানান।
পর্যটকদের জন্য নিরাপদ ও মনোরম পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশিক্ষিত লাইফগার্ড নিয়োগ, উদ্ধার কার্যক্রম জোরদার এবং কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালুর প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
কুয়াকাটার পর্যটন সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে সরকার ও বেসরকারি খাতের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, পর্যটন উন্নয়নে স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও ব্যবসায়ীদের সম্পৃক্ত করা হলে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং স্থানীয় অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।
পর্যটন ব্যবস্থাপনায় বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়লে সরকারের রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পেতে পারে বলে জানান মন্ত্রী।
সমন্বিত পরিকল্পনা ও উন্নয়ন উদ্যোগের কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে কুয়াকাটাকে আন্তর্জাতিক মানের সমুদ্রসৈকত হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। এর ফলে বাংলাদেশের পর্যটনশিল্পের বিকাশের পাশাপাশি দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নেও উল্লেখযোগ্য অবদান রাখা যাবে, তিনি বলেন।
সভায় পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এ বি এম মোশাররফ হোসেন, সংরক্ষিত নারী আসন-৪৯-এর সংসদ সদস্য সুলতানা জেসমিন জুঁই, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নূরুন্নাহার চৌধুরী এবং বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।
বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ, জেলা পরিষদের প্রশাসক আকন কুদ্দুসুর রহমান, পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক চৌধুরী আশরাফুল করিম, পুলিশ সুপার মো. আবু ইউসুফ এবং জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংশু সরকার কুট্টিও সভায় উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা, সরকারি ও বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী নেতা এবং সাংবাদিকরা সভায় অংশ নেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন