প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
আন্দামান সাগরে ট্রলার ডুবির ঘটনায় দুই শতাধিক বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গার নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি তদন্তের জন্য মানবপাচার চক্রের দুই সন্দেহভাজন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে মো. কবির, যিনি ডা. কবির নামেও পরিচিত (৬৫), এবং মো. ইলিয়াস, যিনি ইলিয়াস মেম্বার নামে পরিচিত (৪২) অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। উভয়েই টেকনাফের লেদা এলাকার ২৪ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা।
রবিবার (২৫ অক্টোবর) বিকেল থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত টেকনাফের বিভিন্ন ক্যাম্প এলাকায় বিশেষ যৌথ অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিলে আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের কাছে ডুবে যাওয়া নৌযানের সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে অনেকেই এখনও উদ্ধার হয়নি।
গত ৭ মে কালের কণ্ঠে ‘মাছ শিকারিরাই মানুষ শিকারে’ শিরোনামে একটি বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী চক্রের হোতাদের ধরতে তৎপর হয়ে ওঠে।
কালের কণ্ঠের প্রতিবেদনে টেকনাফকেন্দ্রিক মানবপাচার চক্রের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়। অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ৮ এপ্রিল আন্দামান সাগরে ডুবে যাওয়া নৌযানের সঙ্গে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের কবিরসহ অনেকে জড়িত ছিল।
১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে মানবপাচারের একাধিক মামলার আসামি কবির ও ইলিয়াসকে গ্রেপ্তার করা হয়। কবির ট্রলারডুবির ঘটনায় দায়ের করা মামলার পলাতক আসামি।
অভিযানে অংশগ্রহণকারী বাহিনীর মধ্যে জেলা পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), কোস্টগার্ড, এসআরবি, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এবং ব্যাটালিয়ন আনসার অন্তর্ভুক্ত ছিল।
১৬ এপিবিএনের অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ কাউছার সিকদার জানান, চলতি বছরের এপ্রিলে উন্নত জীবনের আশায় বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা নাগরিকদের একটি নৌযানে করে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর প্রলোভন দেওয়া হয়েছিল। পরে নৌযানটি আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের কাছে ডুবে যায়। এ সময় কয়েকজন যাত্রী ড্রাম ও কাঠের টুকরো ধরে সাগরে ভাসতে থাকলে তাদের উদ্ধার করে কোস্টগার্ড।
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার দুই ব্যক্তির নৌযান পাঠানোর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায়।
একই অভিযানের অংশ হিসেবে পৃথক স্থানে অভিযান চালিয়ে হত্যা ও অস্ত্র-সংক্রান্ত তিনটি মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত আবু তৈয়ব (৩৬) নামের এক ব্যক্তিকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি টেকনাফের নয়াপাড়া নিবন্ধিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা।
১৬ এপিবিএন সূত্রে জানা গেছে, তার বিরুদ্ধে একটি মামলায় চার বছরের কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডের সাজা রয়েছে।
যৌথ অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সরকারি আদেশ অমান্য, মাদক সেবন, বাবা-মাকে মারধর এবং ক্যাম্পে অবৈধ অনুপ্রবেশের মতো বিভিন্ন অপরাধে ছয়জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ কাউছার সিকদার জানান, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন