প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
এক নারীকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করার ঘটনায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) মূল আসামি মো. মাসুম ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারের পর আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
পিবিআই জানায়, ১৪ জুলাই কুড়িগ্রামের সীমান্ত এলাকা থেকে ভারতে পালানোর চেষ্টা করার সময় মাসুম ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার ফুলখা মণ্ডলপাড়ার বাসিন্দা এবং বর্তমানে সাভারের কাতলাপুর এলাকার একজন ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছিলেন।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুরে উত্তরায় ঢাকা জেলা পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার এম.এন. মোর্শেদ।
তিনি উল্লেখ করেন, ২ জুলাই দুপুরে সাভারের বড়দেশী এলাকার ভাড়া বাসা থেকে ৩৯ বছর বয়সী ভুক্তভোগী নারী শারমিন আক্তারের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে সিআইডির ফরেনসিক টিম বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে। পরে নিহতের বাবা মো. শাওকাত হোসেন বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ৮ জুলাই পিবিআই ঢাকা জেলা মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে।
তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে কর্মকর্তারা ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত করেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মাসুম হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। পরে তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার বলেন, গ্রেপ্তারকৃত মাসুম একটি পরিবহন প্রতিষ্ঠানে লাইনম্যান হিসেবে কাজ করতেন। পাশাপাশি তার বাবার চায়ের দোকানেও তিনি কাজ করতেন। ওই দোকানের পেছনের বাসায় থাকতেন ভুক্তভোগী নারী। তাদের পরিচয় ঘটে এবং পরবর্তীকালে একটি পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এক পর্যায়ে শারমিন বড়দেশী এলাকায় নতুন বাসায় ওঠার পর মাসুম সেখানেও নিয়মিত যাতায়াত করতেন।
ঘটনার আগের রাতে মাসুম ও শারমিনের মধ্যে মোবাইল ফোনে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। ঘটনার দিন মাসুম ভুক্তভোগী নারীর বাসায় যান। এক পর্যায়ে বিরোধ উত্থাপিত হলে শারমিনের ব্যবহৃত ওড়না দিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করে পালিয়ে যান। ঘটনাস্থল থেকে শারীরিক সম্পর্কের আলামত, একটি সিগারেটের খোসাসহ বিভিন্ন আলামত প্রাপ্ত হয়।
পুলিশ সুপার মোর্শেদ আরও জানান, ঘটনার পরপরই পিবিআইয়ের ক্রাইম সিন টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং ছায়া তদন্ত শুরু করে। বিজ্ঞানভিত্তিক তদন্ত, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার ও গোয়েন্দা কার্যক্রমের মাধ্যমে মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যে মূল আসামিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। তদন্ত চলছে এবং হত্যাকাণ্ডে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, সেটিও দেখা হচ্ছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন