প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তোলা ছবির বিষয়ে চলমান অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের সামনে বক্তব্য রেখেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, প্রধানমন্ত্রী তার স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান এবং কন্যা জাইমা রহমানের সম্পর্কে ভুল তথ্য ও অপপ্রচার ব্যাপকভাবে ছড়ানো হচ্ছে।
রোববার (৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এবং এসব অপপ্রচার বন্ধে গণমাধ্যমের গঠনমূলক ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ছবির বিষয়ে আলোচনা-সমালোচনার প্রসঙ্গে মাহদী আমিন বলেন, "লাইক, শেয়ার, কমেন্ট পাওয়া কিংবা ভাইরাল হওয়ার একটা অশুভ প্রতিযোগিতা চলছে। যেগুলো সত্য, সেগুলোর ওপর ভিত্তি করে তারপরও মিথ্যা বা অপপ্রচার করা এগুলো রাজনীতির সংস্কৃতি হওয়া উচিত না।"
তিনি আরও বলেন, "গতকাল বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি ছবি আপলোড করার পর সেটি নিয়ে অনেকে অপপ্রচার করেছেন। অথচ ছবিটি হোয়াইট হাউস থেকেই দেওয়া হয়েছে এবং রোববার ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসও ছবিটি শেয়ার করেছে। তাহলে কেন এই মিথ্যাচার?"
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "যা সত্য, যা ন্যায্য, তা ক্লিয়ার করার কিছু নেই। আজকে আমেরিকান অ্যামবেসি নিজেই সেটা শেয়ার করছে। এর চেয়ে বড় ক্ল্যারিফিকেশন আমরা কী চাই?"
মাহদী আমিন বলেন, "বাংলাদেশের একটি নির্বাচিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দেখা করবেন এটি স্বাভাবিক বিষয়। তাদের মধ্যে আন্তরিক ও স্বতঃস্ফূর্ত আলোচনা হয়েছে। এ নিয়ে সরকারপ্রধান কেন মিথ্যাচার করবেন?"
এ সময় তিনি প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী ও কন্যাকে নিয়ে অপপ্রচারের অভিযোগও তোলেন। তিনি বলেন, "প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানের একটি অনুষ্ঠান নিয়েও ভুল তথ্য ছড়ানো হয়েছিল। সেখানে তিনি একজন বিতর্কিত ব্যক্তির সঙ্গে মঞ্চ ভাগ করবেন এমন তথ্য ছড়ানো হলেও পরে আয়োজকরাই বিষয়টি ভুল বলে নিশ্চিত করেছেন।"
জাইমা রহমানের বিষয়ে মাহদী আমিন বলেন, "জাইমা রহমান জাতিসংঘে নিজের যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতে একটি চাকরি পেয়েছেন। এর সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের ন্যূনতম সম্পর্ক নেই। তারপরও তার চাকরিটি বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে বলে প্রচার করা হয়েছে।"
তিনি ক্ষমতাসীন বিএনপিকে নিয়েও অপপ্রচারের কথা উল্লেখ করেন। সম্প্রতি এক কনটেন্ট ক্রিয়েটরের চাঁদাবাজির অভিযোগ তুললেও পরে বিষয়টি ভিন্ন বলে প্রমাণিত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
মাহদী আমিন বলেন, "সংশ্লিষ্ট জায়গাটি অবৈধ হওয়ায় জায়গা নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধ ছিল এবং এর সঙ্গে রাজনীতির ন্যূনতম সংশ্লিষ্টতা ছিল না। তবে, ভাঙচুরের ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত এবং সরকার এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। গ্রেপ্তার, মামলা ও তদন্ত চলছে। এরপরও বিএনপির নামে চাঁদাবাজির অভিযোগ প্রচার করা হয়েছে।"
তিনি আরও বলেন, "এসব ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ভিউ ও প্রচার দেখা গেলেও বাস্তবতার সঙ্গে ন্যূনতম সম্পৃক্ততা নেই। আমাদের প্রত্যেকেরই আরও একটু গঠনমূলক আলোচনা-সমালোচনার দিকে যাওয়া উচিত। যা সত্য ও ন্যায্য সেটাকে তুলে ধরা, যেটা অনৈতিক, যেটা অন্যায্য সেটাকেও তুলে ধরা উচিত নির্মোহভাবে।"
বর্তমান সরকারের সময়ে সর্বোচ্চ বাকস্বাধীনতা রয়েছে দাবি করে মাহদী আমিন বলেন, "গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে। অতীতে ফ্যাসিবাদের সময়ে দুর্নীতি, দুঃশাসন ও দুর্বৃত্তায়নের বিরুদ্ধে সত্য কথা বলতে মানুষ ভয় পেত। বিএনপিসহ গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে যুক্ত অনেকেই তখন সাহস করে রাজপথে নেমেছিলেন। অথচ এখন প্রধানমন্ত্রী, তার স্ত্রী, কন্যা এবং ক্ষমতাসীন দলের বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।"
মাহদী আমিন বলেন, "আমরা বিশ্বাস করি, একটা সুষ্ঠু রাজনীতি আমাদের কাম্য। সেখানে প্রত্যেকে যার যার জায়গা থেকে গঠনমূলক রাজনীতি করবেন, সহাবস্থান রাখবেন, সহানুভূতিশীল আচরণ করবেন।"
এ সময় কুষ্টিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর নামে কটূক্তির অভিযোগে এক স্কুলশিক্ষককে থানায় নেওয়ার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি। মাহদী আমিন বলেন, "বিষয়টি জানার পর প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিক নির্দেশনা দিয়ে ওই শিক্ষককে থানা থেকে পুলিশি পাহারায় সসম্মানে তার বাসায় পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন।"
তিনি বলেন, "এই বাংলাদেশই তো আমরা চাই। অশোভন ও অশালীন আচরণ না করে বাকস্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সবার সহাবস্থান, পারস্পরিক সম্মান ও সৌজন্যবোধ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।"
মাহদী আমিন বলেন, "গণঅভ্যুত্থানে যারা শহীদ হয়েছেন, জীবন দিয়েছেন, তাদের রক্তের ওপর ভিত্তি করে যদি গঠনমূলক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বিনির্মাণ করা না যায়, সেটি দুঃখজনক হবে। আমরা চাই সবার মধ্যে সহাবস্থান থাকুক, সর্বোচ্চ বাকস্বাধীনতা থাকুক। তবে একই সঙ্গে যারা সরকারের সমালোচনা করতে চান, তারা যুক্তিসংগত সমালোচনা করুন।"
তিনি মন্তব্য করেন, "বিরোধী দল মানেই সব বিষয়ে বিরোধিতা করা নয়। রাষ্ট্রের সম্মান ও স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘে গিয়ে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা ও গণমানুষের ক্ষমতার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তিনি যে সম্মাননা পেয়েছেন, সেটি শুধু বিএনপির নয়, পুরো বাংলাদেশের সম্মান।"
সব রাজনৈতিক দলকে পারস্পরিক সম্মান ও সৌজন্য বজায় রেখে গঠনমূলক গণতান্ত্রিক রাজনীতির চর্চার আহ্বান জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, "অযথা বিতর্ক করা, অপপ্রচার করা, অশালীন আচরণ করা সেখান থেকে বেরিয়ে এসে আসুন আমরা সবাই সুস্থ গণতান্ত্রিক রাজনীতি করি, একজন আরেকজনকে সম্মান জানাই এবং যেটা সত্য ও সঠিক সেটা তুলে ধরি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন