প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ভোজেশ্বর ইউনিয়নের আচুরা গ্রামে স্বামীর সামনে স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (২৭ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে ভোজেশ্বর ইউনিয়নের আচুরা গ্রামের আজিজ ঢালীর বাগানে এই ভয়াবহ ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার পর রাতেই অভিযানে নেমে পুলিশ তিনজনকে আটক করেছে।
আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন— আচুরা গ্রামের মো. রাব্বি (২৮), পালং উপজেলার আটিপাড়া এলাকার হযরত আলী খন্দকার (৪২) এবং আচুরা গ্রামের ইমন খন্দকার (২৬)।
পুলিশ এবং ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্র জানিয়েছে, অভিযুক্ত হযরত আলী খন্দকার ভুক্তভোগীর স্বামীকে মোবাইলে কল করে ঘটনাস্থলে ডেকে নেন। তার সেখানে উপস্থিত হয়েছিল তখন রাব্বি, হযরত আলী খন্দকার, ইমন খন্দকার এবং আরও তিন থেকে চারজন অজ্ঞাত ব্যক্তি। তারা ওই স্বামীকে বেঁধে রেখে তার স্ত্রীকে টাকা নিয়ে আসতে বলতেও বাধ্য করেন।
ভুক্তভোগী ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর অভিযুক্তরা জোরপূর্বক তার সঙ্গে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের কাজটি করে। এ সময় তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা ৯৯৯-এ ফোন দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে।
ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ, তার স্বামীকে মাদক ব্যবসায়ী ধরার কথা বলে সোমবার সন্ধ্যায় হযরত খন্দকার, ইমন খন্দকার ও রাব্বি ডেকে নিয়ে গেছে। পরে তাকে অপহরণ করে নড়িয়া উপজেলার আচুড়া এলাকার আজিজ ঢালীর বাগানে নিয়ে গিয়ে বেঁধে রাখে।
অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে, অপহৃত স্বামীর ফোন থেকে স্ত্রীকে কল করে টাকা এবং পেনড্রাইভ নিয়ে বের হতে বলা হয়। তাকে আনতে লোক পাঠানো হয়েছিল এবং পরে তাকে আচুড়া এলাকার একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়, সেখানে তার স্বামীকে আগেই বেঁধে রাখা হয়েছিল।
অভিযোগ অনুযায়ী, ওই স্থানে স্বামীর সামনেই তিনজন মিলে ওই নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়। ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন চিৎকার শুনে এগিয়ে এলে ধর্ষকরা পালিয়ে যায়। ঘটনাটি জানাজানি হলে পুলিশে খবর দেয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে চিকিৎসার জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী নারী জানিয়েছেন, আমার স্বামী রাতে ৯টার দিকে কল করে আমাকে বাসা থেকে বের হতে বলে একটি লোক পাঠিয়েছে এবং তার সঙ্গে অটোতে করে আমি যাই। পরে আমাকে আচুরার একটি জঙ্গলে নিয়ে যায়। সেখানে গিয়ে দেখি আমার স্বামীকে আগেই বেঁধে তার গলায় ছুরি ধরেছে। তখন তার সামনেই হযরত সহ আরও ৩ জন আমাকে ধর্ষণ করে। পরে আমি চিৎকার করলে এলাকার লোকজন এসে আমাকে উদ্ধার করে।
প্রত্যক্ষদর্শী এক যুবক জানান, অনেক রাতে তিনি বাড়ির পাশের জঙ্গলে চিৎকারের শব্দ শুনে সেখানে যান। গিয়ে দেখেন এক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে জড়িয়ে ধরে চিৎকার করছে। জিজ্ঞাসা করলে তিনি ধর্ষণের বিষয়টি জানান। পরে বাড়ির অন্যান্য মহিলারা গিয়ে তাকে উদ্ধার করে পুলিশে খবর দিলে পুলিশ তাদের নিয়ে যায়।
নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাহার মিয়া জানিয়েছেন, ৯৯৯-এ খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে। পরে অভিযানে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। ভুক্তভোগীকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে মেডিকেল পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন