প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ঢাকা, ২ নভেম্বর, ২০২৬ : ইসরাইলের সাম্প্রতিক নির্বাচনে বিদেশি অর্থায়নের অভিযোগে চলমান তদন্তের ফলে নির্বাচনের ফলাফল প্রশ্নবিদ্ধ হবে না, এমনটি জানিয়েছেন দেশটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির প্রধান।
রোববার তিনি মন্তব্য করেন, এই পর্যন্ত যে অভিযোগগুলো উঠেছে, সেগুলো কেবল সন্দেহের পর্যায়ে রয়েছে।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
গত সপ্তাহে নির্বাচন কমিটির প্রধানের অনুরোধে দেশটির নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেত তদন্ত শুরু করে। এই তদন্তের উদ্দেশ্য ছিল ইসরাইলের আরব জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক দল রাম কাতার থেকে অর্থ পেয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা। তবে কাতার এবং দলটি উভয়ই এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
তদন্ত শুরু হওয়ার পর থেকে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তার দল লিকুদ পার্টি আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে নির্বাচনে ভোট ‘চুরির’ অভিযোগ তুলতে শুরু করেছে। এবারের নির্বাচনে আরব দলগুলো অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছে, ফলে বিরোধী দলগুলোর নেতৃত্বে সরকার গঠনের ক্ষেত্রে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
রোববার এক ভিডিও বার্তায় কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির প্রধান ও সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নোয়াম সোলবার্গ শিন বেতের প্রধান এবং দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেলের পাশে দাঁড়িয়ে ইসরায়েলিদের আশ্বস্ত করেন।
তিনি বলেন, ‘ভোটকেন্দ্রে আপনারা যে রায় দিয়েছেন, তার প্রতি সম্মান দেখানো হবে।’ একই সঙ্গে তিনি জানান, নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
সোলবার্গ আরও বলেন, ‘কোনো অনিয়মের ঘটনা ঘটে থাকলে তা বর্তমানে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’ তবে তিনি উল্লেখ করেন যে, এখন পর্যন্ত ‘সন্দেহগুলো কেবল সন্দেহই রয়ে গেছে’।
তিনি আরো বলেন, ‘সত্য উদ্ঘাটনে আমরা অভিযোগগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করব এবং ঘটনার গভীরে গিয়ে প্রকৃত সত্য বের করে আনব।’
তার ভাষ্য, ‘শেষ পর্যন্ত অভিযোগগুলো সত্য প্রমাণিত হলেও তাতে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা কিংবা সামগ্রিক ফলাফল প্রশ্নবিদ্ধ হবে না—এটাই আমাদের অবস্থান।’
তবে লিকুদ পার্টি রোববার এক বিবৃতিতে সোলবার্গের বক্তব্যকে ‘বিস্ময়কর’ বলে মন্তব্য করেছে। দলটির প্রশ্ন, অভিযোগের গুরুত্ব স্বীকার করার পরও কীভাবে তিনি বলতে পারেন যে এসব অভিযোগ নির্বাচনের ফলাফলে কোনো প্রভাব ফেলবে না।
লিকুদ পার্টি আরও বলেছে, ‘তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ইসরাইলের নির্বাচনের ফলাফলের ওপর একটি কালো মেঘ ঝুলে থাকবে।’
অন্যদিকে নেতানিয়াহুর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোট সোলবার্গের বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়েছেন। এর আগে তিনি অভিযোগ করেছিলেন, নেতানিয়াহু নির্বাচনের ফলাফলকে অগ্রহণযোগ্য প্রমাণের চেষ্টা করছেন।
এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আইজেনকোট বলেন, ‘নির্বাচনের ফল অস্বীকার করা, জনগণের মতামতকে দুর্বল করা, একটি পুরো জনগোষ্ঠীকে হেয় করা এবং ইসরাইলকে আবারও নির্বাচনের দিকে ঠেলে দেওয়ার ঘৃণ্য ও বিদ্বেষপূর্ণ চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।’
সরকার গঠনে অনিশ্চয়তা
মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে কোনো জোটই পার্লামেন্টে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। নেতানিয়াহু এবং তার মিত্ররা পেয়েছেন ৫৩টি আসন। অন্যদিকে আইজেনকোটের শিবির পেয়েছে ৪৮টি আসন। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৬১টি আসন।
তবে নির্বাচনের ফলাফলে আরব দল রাম এবং জয়েন্ট লিস্টের উত্থান স্পষ্ট হয়েছে। দল দুটি সম্মিলিতভাবে ১৯টি আসন পেয়েছে।
নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরাতে আরব দলগুলোর সমর্থন নিয়ে সরকার গঠনের বিষয়ে বিবেচনা করছেন আইজেনকোট। তার অনেক সমর্থক এ পদক্ষেপ নেওয়ার পক্ষে থাকলেও সম্ভাব্য জোটের কয়েকটি শরিক দল এর বিরোধিতা করছে।
নির্বাচনের দিন থেকেই নেতানিয়াহু আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ তুলতে শুরু করেন। এর আগে নির্বাচনী প্রচারেও তিনি দলগুলোকে দেশের জন্য হুমকি হিসেবে তুলে ধরেছিলেন।
বিশ্লেষকদের মতে, নেতানিয়াহুর এ প্রচারণা ইসরাইলের আরব সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মধ্যে রেকর্ডসংখ্যক ভোটারকে ভোটকেন্দ্রে যেতে উৎসাহিত করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে। ১৯৪৮ সালে ইসরাইল প্রতিষ্ঠার পর যারা দেশটিতে থেকে গিয়েছিলেন, তাদের বংশধররাই মূলত এই আরব সংখ্যালঘু জনগণের অংশ। দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশ তারা।
রাম দলের প্রধান মানসুর আব্বাস বিদেশি অর্থায়নের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি তদন্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, এ ঘটনার সঙ্গে তাঁর দলের ‘কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই’।
অন্যদিকে কাতার অভিযোগগুলোকে ‘হাস্যকর ও বিপজ্জনক’ বলে আখ্যায়িত করেছে।
রোববার সোলবার্গ বলেন, অভিযোগগুলোর তদন্ত অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে চলবে। তবে এ ধরনের বক্তব্যের কারণে আরব জনগণের ভোটাধিকার নিয়ে কোনো সন্দেহ তৈরি হওয়া উচিত নয়।
তিনি বলেন, ‘যেসব নাগরিক ভোট দিতে কেন্দ্রে গিয়েছেন, তারা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করেছেন।’
ভোট কেনার অভিযোগে আটক একজন মুক্ত
এদিকে নির্বাচনের দিন রামের পক্ষে ভোট কেনার অভিযোগে পৃথক একটি মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া এক সন্দেহভাজনকে মুক্তি দিয়েছেন ইসরাইলের একটি আদালত। একই মামলায় আরেকজনের পুলিশি হেফাজতের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে এবং তৃতীয় একজনকে গৃহবন্দি রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে রোববার পুলিশ জানিয়েছে।
এর আগে পুলিশ জানিয়েছিল, রামের পক্ষে ভোট কেনার সন্দেহে খামভর্তি টাকা নিয়ে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় নিজেদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেছে দলটি।
টাইমস অব ইসরাইলের প্রতিবেদনে বলা হয়, বিচারক এরান জাবারি এক সন্দেহভাজনকে গৃহবন্দি রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে গুরুতর সন্দেহ থাকলেও গ্রেপ্তারের পর থেকে মামলার পক্ষে নতুন কোনো শক্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি; বরং প্রমাণের ভিত্তি আরও দুর্বল হয়েছে বলে বিচারক মন্তব্য করেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, অন্য এক সন্দেহভাজনের আটকাদেশ বাড়ানোর পক্ষে নতুন কোনো প্রমাণ হাজির করতে না পারায় বিচারক পুলিশের সমালোচনা করেন।
নির্বাচনের দিন এক ভিডিও বার্তায় নেতানিয়াহু এ গ্রেফতারের বিষয়টি প্রকাশ করেছিলেন। তখন তিনি তার সমর্থকদের উদ্দেশে বলেছিলেন, এ ধরনের ঘটনা প্রমাণ করে কেন তাদের ভোটকেন্দ্রে গিয়ে লিকুদ পার্টিকে ভোট দেওয়া প্রয়োজন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন