প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
বরিশালে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান 'অগ্রণী হাউজিং লিমিটেড'-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আব্দুল আজিজ হাওলাদারকে মারধর, অন্ডকোষ চেপে ধরা এবং জোরপূর্বক চেক ও স্টাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমান লিটুকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।
রোববার (৫ জুলাই) বেলা আড়াইটার দিকে নগরীর সদর রোডের ‘টপ টেন’ নামক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে থেকে এই গ্রেফতার করা হয়। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ (বিএমপি) প্রধান আশিক সাঈদ গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আব্দুল আজিজ কোতোয়ালি মডেল থানায় অভিযোগ করেছেন, গত ২৭ জুন সন্ধ্যার পর সদর রোডে তার অগ্রণী হাউজিং অফিসে ন্যাক্কারজনক এই ঘটনা ঘটে। তিনি জানিয়েছেন, লিটু একসময় আবাসন ব্যবসার অংশীদার ছিলেন এবং লিটুর বিনিয়োগের বিপরীতে তাকে জমি বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের কাছে কোনো টাকা পাওনা নেই বলে লিটু অঙ্গীকারনামাও দিয়েছিলেন। তবে এরপরও লিটু দীর্ঘদিন ধরে তার কাছ থেকে এক কোটি টাকা দাবি করে আসছিলেন।
আব্দুল আজিজ জানিয়েছেন, গত ২৭ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সদর রোডের অফিস কক্ষে ঢুকে তাকে মারধর করে লিটু ও তার ক্যাডার বাহিনী। প্রথমে মারধরের পর একপর্যায়ে লিটু তার অন্ডকোষ চেপে ধরে জোরপূর্বক ৭০ লাখ টাকার একটি চেক, একটি ব্ল্যাংক (সাদা) চেক এবং দুটি সাদা স্টাম্পে স্বাক্ষর নেয়। ঘটনার পরপরই তিনি ব্যাংকে অভিযোগ করে রাখায় আসামিরা টাকা তুলতে পারেনি। পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) তিনি আদালতে একটি নালিশী মামলা দায়ের করেন, আদালত সেটি এফআইআরভুক্ত করতে কোতোয়ালী থানার ওসিকে নির্দেশ দেন।
ঘটনার সত্যতা সবাইকে জানাতে শনিবার রাতে আব্দুল আজিজ নিজেই তার অফিসের সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করেন, ফলে বিষয়টি ব্যাপকভাবে জানাজানি হয়।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, আব্দুল আজিজের কক্ষে চারজন যুবক প্রবেশ করেন। তাদের মধ্যে মোস্তাফিজুর রহমান লিটু সরাসরি আজিজকে মারধর করছেন। একপর্যায়ে লিটু আজিজের অন্ডকোষ চেপে ধরে চেক ও স্টাম্পে স্বাক্ষর নেয়। মারধরের সময় আজিজ ‘বাচ্চু-বাচ্চু’ বলে চিৎকার করলে একজন ব্যক্তি কক্ষে ঢোকার চেষ্টা করেন, কিন্তু লিটুর সঙ্গীরা তাকে ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয়। স্বাক্ষর নেওয়ার পর চেক ও স্টাম্প হস্তান্তরের ছবিও তোলে তারা।
এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অভিযুক্ত লিটু কাটপট্টি সড়কের বাসিন্দা এবং তার বড় ভাই মাহবুবুর রহমান পিন্টু মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি। নগরীতে লিটু যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে গুঞ্জন ছড়ালে রোববার দুপুরে বরিশাল প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে জেলা ও মহানগর যুবদল।
সংবাদ সম্মেলনে জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এইচ এম তসলিম এবং মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ হাসান মামুন স্পষ্ট জানান, লিটু যুবদলের জেলা, মহানগর বা ওয়ার্ড, কোনো কমিটির সদস্য নন। তিনি কখনোই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে কেউ যাতে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার না করতে পারে, সেজন্য তারা অবিলম্বে লিটুর গ্রেফতারের দাবি জানান। এই সংবাদ সম্মেলনের ঘণ্টাখানেরকের মাথায় পুলিশ লিটুকে গ্রেফতার করে।
অপরদিকে, ঘটনার কথা স্বীকার করে অভিযুক্ত লিটু সময় সংবাদের কাছে দাবি করেন, ওইদিন যারা গিয়েছিলেন তারা সকলেই প্রতিষ্ঠানের পরিচালক। লিটু আরো জানান, আজিজ সকলের টাকা আত্মাসাত করেছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন