প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
নেত্রকোনায় ১০৮ বছরেও ১২ কিলোমিটার রেললাইন সম্প্রসারণ হয়নি। জারিয়া থেকে দুর্গাপুর পর্যন্ত রেললাইনের সম্প্রসারণ হলে নতুন অর্থনীতির দুয়ার খুলবে, পাশাপাশি পর্যটনও বৃদ্ধি পাবে।
স্থানীয়রা উল্লেখ করেছেন, রেললাইন সম্প্রসারণের মাধ্যমে নতুন আন্তঃনগর ট্রেন চালু করা হলে এই অঞ্চলের অন্তত ১০ লাখ মানুষের যাতায়াতে সুফল আসবে। সম্প্রতি এলাকা পরিদর্শন করার পর রেল প্রতিমন্ত্রী ব্যবস্থা নিতে আশ্বাস দিয়েছেন এবং জানিয়েছেন, সম্ভাব্যতা যাচাই করে দ্রুতই রেললাইন সম্প্রসারণের কাজ শুরু হবে। ডেপুটি স্পিকার বলেছেন, ‘কিশোরগঞ্জ থেকে আন্তঃনগর ট্রেন জারিয়া পর্যন্ত নিয়ে আসার চেষ্টা চলছে।’
জারিয়া থেকে দুর্গাপুরের মধ্যে ১২ কিমির দূরত্ব রয়েছে। কিন্তু ১০৮ বছরেও এই দূরত্বের রেললাইন সম্প্রসারণ হয়নি। জারিয়া থেকে দুর্গাপুরে রেললাইন সংযুক্ত হলে নতুন সম্ভাবনা দেখা দেবে এবং পাঁচ উপজেলার প্রায় ১০ লাখ মানুষের যাতায়াতে ভোগান্তি কমবে। স্থানীয়রা দীর্ঘদিন ধরে এই রেললাইন সম্প্রসারণের জন্য আন্দোলন করে আসছেন।
বর্তমানে জারিয়া থেকে ঢাকাগামী বলাকা কমিউটারসহ জারিয়া-ময়মনসিংহ রোডে একটি লোকাল ট্রেন দিনে চারবার যাতায়াত করে। এর ফলে প্রতিদিন অগণিত যাত্রী স্টেশনটিতে ভিড় করেন। স্থানীয়রা বলছেন, ১২ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে তাঁদের অতিরিক্ত অর্থ খরচ করতে হচ্ছে এবং ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। তাই দ্রুত দুর্গাপুর পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণের দাবি তাদের।
সর্বপ্রথম ১৯১২ সালে রেললাইন সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল এবং ১৯১৮ সালে বাণিজ্যিকভাবে শ্যামগঞ্জ থেকে জারিয়া-ঝাঞ্জাইল হয়ে দুর্গাপুরে রেললাইন সম্প্রসারিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বিভিন্ন কারণে, যেমন ১৯৪৭ সালের দেশভাগ এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ আর কোনো উদ্যোগ নেয়নি। এর পর থেকে আজ পর্যন্ত দুর্গাপুরের দিকে রেললাইন সম্প্রসারিত হয়নি। সমস্ত প্রক্রিয়ার জন্য কাজ চলা সত্ত্বেও কোনো সরকারই কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেনি।
এই বিষয়ে এলাকার মানুষ বিভিন্ন সময়ে মানববন্ধনসহ আন্দোলন চালিয়েছে এবং চলমান নির্বাচনের আগে নেত্রকোনা ১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনের বিএনপির এমপি প্রার্থী ডেপুটি স্পিকার সাধারণ মানুষের রেললাইন সম্প্রসারণ প্রত্যাশা পূরণ করার আশ্বাস দেন। এর পর তিনি মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন এবং মন্ত্রণালয় বিষয়টি আমলে নেয়।
পুর্বধলা জারিয়া স্টেশন মাস্টার মোবারক হোসাইন বলেন, “বিভিন্ন সময়ে উর্ধ্বতনরা স্টেশন পরিদর্শন করেছেন। রেললাইন সম্প্রসারণ এবং আন্তঃনগর চালু হলে এই অঞ্চলের চেহারা বদলে যাবে।” বর্তমানে প্রতি দিন চারটি লোকাল ট্রেন ময়মনসিংহ থেকে আসছে। এতে গড়ে আড়াইশ থেকে তিনশ টিকিট বিক্রি হয়। প্যাসেঞ্জার ট্রেনের ৩০০ আসন সবগুলোই প্রতিদিন বিক্রি হয়।
সোলেমান মিয়া, জারিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি এবং বলাকা ট্রেনের এজেন্ট, বলেন, “এই রেললাইন সম্প্রসারণ হওয়ার কথা ছিল যখন এই স্টেশনটি নির্মাণ করা হয়। কিন্তু এই পর্যন্ত কেন হয়নি, তা আমরা জানি না। ট্রেন চলাচল হলে এই সড়কে চলাচল সহজ এবং নিরাপদ হবে। এদিকে, সম্প্রতি রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ স্টেশন ও রেললাইন পরিদর্শন করে দ্রুত বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমরা যাচাই বাছাই করছি। ফিজিবিলিটি স্টাডি শেষে জনগণের উপকারের কথা মনে রাখতে হবে।”
এই এলাকার যাতায়াতের ভোগান্তি কমাতে কিশোরগঞ্জের আন্তঃনগর এক্সপ্রেস ট্রেনের ডিও লেটার পাঠানো হয়েছে, যাতে সেটিকে বর্ধিত করে জারিয়া পর্যন্ত নিয়ে আসা যায়। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, “এটি যথেষ্ট কাছে দিয়ে চলাচল করে, তবে এটি চালু হলে কিশোরগঞ্জের মানুষ নেত্রকোনার ভাটি অঞ্চলটিও দেখতে পাবে এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াতের ভোগান্তি কমবে।”
উল্লেখ্য, মোট ৫ টি ট্রেনে গড়ে ৬ শ মানুষ টিকিটে চলাচল করলেও টিকিট ছাড়াও একই পরিমাণ মানুষ প্রতিদিন এই সড়কে চলাচল করে এবং ব্যবসায়ীদের সকল মালামালসহ মানুষ এই স্টেশন থেকে ময়মনসিংহ, ঢাকা ও সারাদেশে চলাচল করে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন