২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ ইং রাত ২:১৭
ব্রেকিং নিউজ
বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের স্বপ্ন দেখে লাভ নাই, ভোলায় তথ্যমন্ত্রী হাসান মাহমুদ ভোলায় মহানবী (সাঃ) কে কটুক্তি করায় ইসলামী আন্দোলনসহ ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের বিক্ষোভ, গৌরাঙ্গ আটক ভোলার লালমোহনে এমপি শাওনের রোগমুক্তি কামনায় দোয়া মোনাজাত কৃষি পণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করনে সমবায় সংগঠনগুলোর কর্মকৌশল নির্ধারণ ভোলার ভেদুরিয়ায় এক নারীর আঙ্গুল কর্তনসহ ৩ জনকে কুপিয়ে জখম করেছে দূর্বত্তরা। আটক-১ ১৩ বছর ধরে তালা ঝুলছে দৌলতখান হাসপাতালের এক্স-রে কক্ষে ভোলায় দূরারোগ্য  ব্যাক্তিকে সহায়তা করলেন ডাস এর চেয়ারম্যান ইউনুছ মিয়া ভোলার মেঘনা নদীতে ডেঞ্জার জোনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে চলছে ঝূঁকিপূর্ণ নৌযান দৌলতখানে বিদ্যুতায়িত হয়ে সৌদি প্রবাসীর মৃত্যু ভোলা প্রেসক্লাবে তোফায়েল আহমেদের সুস্থতা কামনায় দোয়া-মোনাজাত অনুষ্টিত

ভোলা দৌলতখানে মেঘনা নদীতে ইলিশ শূন্য

Reporter Name
  • Update Time : Monday, June 7, 2021,
  • 228 Time View

দৌলতখান প্রতিনিধি।
ভোলার দৌলতখানের মেঘনা নদীতে ভরা মৌসুমেও জেলেদের জালে মিলছে না কাঙ্খিত ইলিশ জেলেদের মাঝে হাহাকার।
সারাদিন নদীতে জাল ফেলে ইলিশ না পেয়ে খালি হাতে অনেক জেলে ঘাটে ফিরছেন। এতে অনেকটা ইলিশশূন্য হয়ে পড়েছে দৌলতখানের বিভিন্ন মাছঘাটসহ হাট-বাজারগুলো।
গত বছর এই দিনে ঘাটগুলোতে রাত-দিন হাঁকডাক দিয়ে ইলিশ বেচাকেনায় প্রাণচাঞ্চল্য ছিল ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে। বর্তমানে সেখানে এখন ইলিশশূন্যতায় সুনসান নীরবতা। মেঘনায় ইলিশ না থাকায় অনেক জেলে এ পেশা পরিবর্তন করে অন্য কাজে ঝুঁকছেন। জাটকা সংরক্ষণ ও ইলিশের উৎপাদনের লক্ষ্যে মার্চ ও এপ্রিলে মেঘনা নদীতে সকল ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ ছিল। নিষেধাজ্ঞার সময় মাছ ধরার দায়ে অনেক জেলেকে প্রশাসন জেল-জরিমানা করেছে। নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার এক মাসের বেশি সময় পার হলেও এখনো জেলেদের জালে মিলছে না ইলিশ। জাটকা নিধনের ফলে ইলিশের আকাল হয়েছে বলে দাবি করেছেন সচেতন মহল। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে কয়েকটি প্রভাশালী চক্র মেঘনা নদীতে অবৈধ চরঘেরা মশারি জাল, বেহুন্দি জাল ও বেড় জাল দিয়ে জাটকা ইলিশ (চাপিলা) শিকার করে আসছে। এর ফলে মাছের আকাল দেখা দিয়েছে। এদিকে এসব অবৈধ জাল বিনষ্ট করতে তৎপর উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ। প্রায় সময় বিভিন্ন মাছঘাট থেকে অভিযান চালিয়ে ওইসব অবৈধ জাল জব্দ করে জনসম্মুখে পুড়িয়ে ধ্বংস করে প্রশাসন। সমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত দৌলতখান উপজেলার পাতারখাল নতুন ও পুরাতন মাছঘাট, সউবাদের মোড়ের মাছঘাট, ভবানীপুর মাছঘাট, গুপ্তগঞ্জবাজার মাছঘাট, সরকারি দিঘীরপাড় মাছঘাট, মেদুয়া মাছঘাট, চরপাতা মাছঘাটসহ বিভিন্ন ঘাট ঘুরে দেখা যায়, ঘাটে তেমন মাছ নেই বললেই চলে। জেলে ও আড়তদাররা অলস সময় পার করছেন। এ সময় মেঘনা নদী থেকে গুটিকয় মাছ শিকার করে বিক্রি করতে আসা বেলাল নামের এক মাঝি আক্ষেপ করে জানান, পাঁচজন শ্রমিক (নৌকার ভাগী) নিয়ে মেঘনায় সকালে ইলিশ শিকার করতে গিয়েছি। মেঘনা নদীতে দুইবার খ্যাও বেয়ে (জাল ফেলে) একটি ইলিশ মাছও পাওয়া যায়নি। তবে ক’টা পোয়া মাছ পেয়েছি। যা ঘাটে এনে ৫শ ২০ টাকা বিক্রি করেছি। এতে নৌকার খরচ পোষানো দূরের কথা, বাকিতে জ্বালানি নিয়ে উল্টো দেনা হয়েছি। সংসার চালাবো কীভাবে বুঝতে পারছি না।
সাহাজান, মিলন ও জিলন। মাঝিসহ কয়েকজন জেলে হতাশা প্রকাশ করে বলেন, নিষেধাজ্ঞা উঠে গেছে অনেকদিন আগে। মেঘনা নদীতে ইলিশের দেখা নেই। সারাদিন নদীতে জাল ফেলে দুই-চারটা মাছ পাওয়া যায়। এ দিয়ে ইঞ্জিনচালিত নৌকার তেলের খরচও জোগাড় করা যায় না। মার্চ-এপ্রিল টানা দুই মাস মেঘনা নদীতে মাছ শিকারের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার। নিষেধাজ্ঞার সময় ছেলে-মেয়ে নিয়ে অনেক কষ্টে দিন কাটিয়েছি। নিষেধাজ্ঞাকালীন মাছ ধরা থেকে জেলেদের বিরত রাখতে মার্চ, এপ্রিল, মে ও জুন এ চার মাস ৪০ কেজি করে চাল দেয়ার কথা। কিন্তু অনেক জেলেই তেমন কোন চাল পায়নি বলে তাদের অভিযোগ। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা স্বজনপ্রীতি করে তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করে চাল বিতরণ করে আসছে। এসব তালিকায় যাদের নাম রয়েছে বেশিরভাগই জেলে নয়। তারা বিভিন্ন পেশার লোকজন বলে তারা দাবি করেন। দৌলতখান পাতারখাল মাছঘাটের আড়তদার ইমাম হাওলাদার দৈনিক বড়িশাল বার্তা সাংবাদিক কে জানান, মেঘনায় ইলিশ না থাকায় জেলেদের পাশাপাশি আমাদেরও দুর্দিন কাটছে। সারাদিন ঘাটে থেকেও কোনো আয়রোজগার নেই। মূলত মেঘনায় পর্যাপ্ত ইলিশ ধরা পড়লেই দৌলতখানের ব্যবসা-বাণিজ্য সচল হয়ে ওঠে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সম্প্রতি উপজেলার একটি ইউনিয়নে জেলেদের মৎস্য ভিজিএফের চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অনিয়মের বিরুদ্ধে ওইসময় কার্ডধারী জেলেরা চাল না পেয়ে বিক্ষোভ করেছেন। এ সময় বিক্ষুব্ধ জেলেদের তোপের মুখে পড়েন ওই ইউপির চেয়ারম্যান। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সর্বত্র আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠে। দৌলতখান সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহফুজুল হাসনাইন প্রতিদিনের সংবাদকে জানান, মেঘনায় ইলিশ আগের চেয়ে একটু কম পড়ছে। এর কয়েকটি কারণ রয়েছে। বেশিরভাগ ইলিশ সমুদ্র থেকে আসে। সমুদ্রে বর্তমানে ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা থাকায় সেখানে ইলিশের অবাধ বিচরণের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তাছাড়া মেঘনা নদীর পানিতে লবণের পরিমাণ বেড়ে গেছে এবং দীর্ঘসময় বৃষ্টি ছিল না। এর ফলে মিঠা পানির প্রবাহ না থাকায় মেঘনার ভরা মৌসুমেও ইলিশের আকাল দেখা দিয়েছে। এখন বৃষ্টি শুরু হয়েছে, নদীর লোনা পানি কেটে গিয়ে মিষ্টি পানিতে প্রচুর পরিমাণ ইলিশ পাবে বলে ওই কর্মকর্তা আশা ব্যক্ত করেন। জেলেদের তালিকায় স্বজনপ্রীতি ও ভিন্ন-পেশার লোক রয়েছে? এ প্রতিনিধির এমন প্রশ্নের জবাবে মাহফুজুল হাসনাইন বলেন, উপজেলায় ২০ হাজার ৩শ ৫৯ জন নিবন্ধিত জেলের তালিকা রয়েছে। মূলত তারাই চাল পাচ্ছেন। জেলে ছাড়া কাউকে চাল দেয়ার সুযোগ নেই। স্বজনপ্রীতি ও ভিন্ন-পেশার লোক—এমন অভিযোগ অনেকের মনগড়া কথা হতে পাড়ে। এ বিষয়ে দৌলতখান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি। তাই বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2019 LatestNews
Theme Dwonload From Ashraftech.Com
AshrafTech